Friday , July 31 2026
Breaking News
নতুন অধিনায়কত্বের ভারে লিটন দাসের ব্যাটিং ছন্দ নিয়ে শঙ্কা, ভাবনায় বিসিবি

নতুন অধিনায়কত্বের ভারে লিটন দাসের ব্যাটিং ছন্দ নিয়ে শঙ্কা, ভাবনায় বিসিবি

বাংলাদেশ ক্রিকেটে আবার শুরু হয়েছে নেতৃত্ব বদলের পালা। মেহেদী হাসান মিরাজকে সরিয়ে জাতীয় দলের নতুন ওয়ানডে অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অভিজ্ঞ ব্যাটার লিটন দাসকে। যেহেতু তিনি ইতোমধ্যে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেরও নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সেকারণে তাকে এখন থেকে সাদা বলের নিয়মিত অধিনায়ক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের এক গুরুত্বপূর্ণ সভা শেষে এই বড় সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। বর্তমান ক্রিকেট কাঠামোর কথা চিন্তা করে বিসিবি তিন ফরম্যাটের জন্য তিনজন আলাদা অধিনায়ক রাখার পরিবর্তে লাল বল এবং সাদা বলের জন্য দুজন পৃথক অধিনায়ক রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিসিবি প্রধানের এই যুক্তি অনুযায়ী, টেস্ট ফরম্যাটের লাল বলের নেতৃত্ব একজন সামলাবেন এবং ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির সাদা বলের দায়িত্ব পালন করবেন আরেকজন। এতে আলাদাভাবে তিনটি ফরম্যাটের চাপ তিনজনের ওপর পড়বে না, বরং দলের পরিকল্পনা ও মনোযোগ নির্দিষ্ট থাকবে। একইসঙ্গে মেহেদী হাসান মিরাজকে ওয়ানডে নেতৃত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পেছনের কারণ হিসেবে তার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বিষয়টিও সামনে এনেছে বোর্ড। টেস্ট ক্রিকেটের মতো ওয়ানডেতেও মিরাজ দলের অন্যতম সেরা পারফরমার। কিন্তু সম্প্রতি ব্যাটে-বলে তার সময়টা খুব একটা ভালো যাচ্ছিল না। দল টানা কয়েকটি ওয়ানডে সিরিজ জিতলেও অলরাউন্ডার মিরাজের ব্যক্তিগত অবদান সেভাবে চোখে পড়েনি। তাই অধিনায়কত্বের বাড়তি চাপ থেকে মুক্ত রেখে মিরাজকে তার সেরা ছন্দে ফিরিয়ে আনাই বোর্ডের মূল লক্ষ্য।

তবে এই সিদ্ধান্তের পরই ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মনে নতুন করে এক বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—যাকে অধিনায়ক করা হলো, সেই লিটন দাসের নিজেরই তো ব্যাটিং ফর্ম নিয়ে বেশ টানাপোড়েন চলছে। দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর ধরে ব্যাটার লিটন দাস তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বাজে সময়ের মধ্য দিয়ে গেছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে একটি দায়িত্বশীল ইনিংস খেলার পর টানা দীর্ঘ সময় ফিফটির দেখা পাননি এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। অবশেষে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি দুর্দান্ত ওয়ানডে ফিফটি করে তিনি রানে ফেরার ইঙ্গিত দেন। এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কিছু ইনিংসে রান পাওয়ায় তার ব্যাটিংয়ে কিছুটা আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে।

কিন্তু দীর্ঘ খরা কাটিয়ে সবেমাত্র উইকেটে থিতু হতে শুরু করা লিটন দাসের কাঁধে সাদা বলের অধিনায়কের গুরুদায়িত্ব তুলে দেওয়া কতটা সুদূর প্রসারী সিদ্ধান্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। সামনেই রয়েছে মর্যাদাকর ওয়ানডে বিশ্বকাপ। আর সেই বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ দল লিটন দাসের নেতৃত্বেই মাঠে নামবে। অধিনায়কত্বের এই বাড়তি মানসিক চাপ এবং বড় টুর্নামেন্টের প্রত্যাশার পারদ কি তবে লিটনকে আবারও রানখরায় ফেলে দেবে? অতীতে দেখা গেছে অতিরিক্ত দায়িত্ব অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের ব্যাটিং পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করেছে। ক্রিকেটপ্রেমী ও বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, অধিনায়কত্বের অতিরিক্ত মানসিক বোঝায় লিটন যদি নিজের স্বাভাবিক ব্যাটিং ছন্দ হারিয়ে ফেলেন, তবে তা জাতীয় দলের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসবে। এখন দেখার বিষয়, নতুন নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে লিটন দাস কীভাবে তার ব্যাট ও দলকে সঠিক পথে এগিয়ে নেন।

এছাড়াও

অস্ট্রেলিয়া সফর: বাংলাদেশ টেস্ট স্কোয়াডে বড় পরিবর্তন, ফিরলেন জাকের-সৌম্য

অস্ট্রেলিয়া সফর: বাংলাদেশ টেস্ট স্কোয়াডে বড় পরিবর্তন, ফিরলেন জাকের-সৌম্য

আগামী ১৩ আগস্ট থেকে অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে শুরু হতে যাওয়া ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে ১৫ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *