রাজধানীর কলাবাগানের ক্রিসেন্ট রোডে অবস্থিত একটি ছাত্রীনিবাস থেকে ১৯ বছর বয়সী এক নার্সিং শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পিংকি বিশ্বাস নামের এই তরুণী মিরপুর রোডের বেসরকারি আনোয়ার খান মডার্ন নার্সিং কলেজের প্রথম বর্ষে পড়তেন। গত শুক্রবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ এটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করলেও, ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।
কলাবাগান থানা সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৮টার দিকে ছাত্রীনিবাসের মালিক পুলিশকে ফোন করে একজন শিক্ষার্থীকে তার কক্ষে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়ার খবর দেন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) লিজা আক্তারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কক্ষের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ থাকায় পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং পিংকি বিশ্বাসকে একটি সবুজ ওড়না দিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। দ্রুত তার মরদেহ নিচে নামানো হয় এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। দুপুরের দিকে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এসআই লিজা আক্তার জানান, পিংকি বিশ্বাস ক্রিসেন্ট রোডের একটি পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় অবস্থিত ওই ছাত্রীনিবাসের একটি কক্ষে থাকতেন। এই কক্ষে আরও দুজন ছাত্রী ছিলেন, তবে ঘটনার সময় তারা ছুটিতে নিজ নিজ বাড়িতে গিয়েছিলেন। ফলে পিংকি কক্ষটিতে একাই ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, কক্ষের পরিবেশ ও প্রাথমিক আলামত পর্যালোচনা করে তাদের ধারণা, পিংকি আত্মহত্যা করেছেন। তবে, পুলিশ কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামতের জন্য অপেক্ষা করছে।
পিংকি বিশ্বাসের গ্রামের বাড়ি বরিশালের উজিরপুর উপজেলায়। শিক্ষাজীবন ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে তিনি ঢাকায় এসেছিলেন। তার এই আকস্মিক মৃত্যু পরিবারে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। একজন তরুণী শিক্ষার্থীর এমন অস্বাভাবিক মৃত্যু তার সহপাঠী, শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট মহলে বিস্ময় ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। পরিবারের সদস্যদের কাছে খবর পাঠানো হয়েছে এবং তারা ঢাকার পথে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এই ঘটনা আবারও শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং পড়াশোনার চাপ নিয়ে আলোচনায় এনেছে। আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের ওপর উচ্চশিক্ষার চাপ, ভালো ফলাফলের আকাঙ্ক্ষা, পারিবারিক প্রত্যাশা এবং সামাজিক প্রতিযোগিতা প্রায়শই তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে যারা পরিবার থেকে দূরে ছাত্রীনিবাস বা মেস বাড়িতে থাকেন, তাদের একাকীত্ব, অনিশ্চয়তা এবং নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ মানসিক চাপ বাড়িয়ে তোলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং কাউন্সেলিং পরিষেবা আরও জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে তারা যেকোনো সংকট মুহূর্তে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেতে পারেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পিংকির মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। এছাড়া, পুলিশ পিংকির বন্ধুবান্ধব, সহপাঠী এবং ছাত্রীনিবাসের অন্যান্য বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে ঘটনার পেছনের সম্ভাব্য কারণগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। আত্মহত্যার প্ররোচনা বা অন্য কোনো কারণ ছিল কিনা, সে বিষয়েও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় কলাবাগান থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা আশাবাদী যে, দ্রুতই এই মৃত্যুর রহস্য উন্মোচিত হবে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
