টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কে একটি বালুবোঝাই ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৭ জন যাত্রী। গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার রক্তিপাড়া এলাকায় সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জামালপুরগামী ‘ক্রাউন ডিলাক্স’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা নিয়ন্ত্রণহীন একটি বালুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে সেটির সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে বাসটির সামনের অংশ পুরোপুরি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, আশেপাশের মানুষ বিকট শব্দ শুনতে পান এবং দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
খবর পেয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষ, পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রাকের মধ্য থেকে হতাহতদের উদ্ধার করতে বেশ বেগ পেতে হয়। ঘটনাস্থলেই দুজনের প্রাণহানি ঘটে। এছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় ১৮ জনকে উদ্ধার করে তৎক্ষণাৎ মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আরও একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের অনেকের মাথা ও বুকে গুরুতর আঘাত রয়েছে, যার ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ব্যক্তিদের নাম ও পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক গণমাধ্যমকে জানান, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের জন্য পুলিশের কয়েকটি টিম কাজ করছে। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা স্বজনদের মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি, আহত যাত্রীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তদারকি করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর নিহতদের মরদেহগুলো তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে এই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার পর টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কে কিছু সময় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ও হাইওয়ে ট্রাফিক বিভাগের তৎপরতায় দুর্ঘটনা কবলিত যান দুটি সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। স্থানীয় সচেতন মহল ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে বালুবোঝাই ট্রাক চলাচল এবং ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতাই এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার মূল কারণ। মহাসড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ফিটনেসবিহীন ও ওভারলোডেড যানবাহনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
