ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশে এক নজিরবিহীন ও আশ্চর্যজনক ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। চট্টগ্রামমুখী লেনে শত শত ইয়াবা বড়ি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ব্যস্ত এই মহাসড়কে একের পর এক দ্রুগামী যানবাহনের চাকায় পিষ্ট হয়ে মাদকদ্রব্যটি গুঁড়ো হয়ে যায়, যার ফলে পিচঢালা রাস্তার নির্দিষ্ট অংশজুড়ে হলুদাভ আভা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় পথচারী ও এলাকাবাসী কিছু অক্ষত ও ভাঙাচোরা ইয়াবা উদ্ধার করে দ্রুত পুলিশ প্রশাসনের হাতে সোপর্দ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের ব্যস্ততম নুনাছড়া বটতলা এলাকায় এ ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। মহাসড়কের মতো উন্মুক্ত স্থানে এভাবে বিপুল পরিমাণ উচ্চমাত্রার মাদক ছড়িয়ে পড়ে থাকার দৃশ্য দেখে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, উদ্ধারকৃত মাদকের মোট ওজন আনুমানিক ২২০ গ্রাম। উদ্ধার করা ইয়াবার সিংহভাগই গাড়ি চাপা পড়ে গুঁড়ো বা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। পুলিশ ধারণা করছে, গুঁড়ো হয়ে যাওয়া ও ভাঙাচোরা অংশ মিলিয়ে সেখানে আনুমানিক ৩ হাজার বা তারও বেশি ইয়াবা বড়ি ছড়িয়ে পড়েছিল।
সাধারণত কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবার বড় চালানের চালান রাজধানী ঢাকার দিকে পাচার হওয়ার চিত্রই চোখে পড়ে। তবে এবার ব্যতিক্রমীভাবে চট্টগ্রামমুখী লেনে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার বাসিন্দা মুহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে ইয়াবা গুঁড়ো হওয়ার দৃশ্য সত্যিই নজিরবিহীন। স্বাভাবিকভাবে ঢাকা অভিমুখে পাচারের ঘটনা ঘটে থাকলেও উল্টো পথের লেনে এমন ঘটনার পেছনের রহস্য নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ কৌতূহল ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, কে বা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এসব মাদক মহাসড়কে ফেলে গেছে, সে বিষয়ে নিবিড় তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, মহাসড়কে পুলিশি তল্লাশি বা বিশেষ চেকপোস্টের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কায় কোনো মাদক কারবারি আতঙ্কিত হয়ে সঙ্গে থাকা ইয়াবার ব্যাগ বা পোটলা রাস্তায় ফেলে চম্পট দিয়ে থাকতে পারে। এছাড়া চলন্ত কোনো দ্রুতগতির যানবাহন থেকে অসাবধানতাবশত মাদকের প্যাকেটটি নিচে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
মাদক চোরাচালানের এই রুটটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারিতে রয়েছে উল্লেখ করে ওসি আরও জানান, উদ্ধারকৃত ইয়াবার সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এবং ঘটনার পেছনের মূল চক্রকে শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
