সাভার পৌর এলাকার মজিদপুর দিঘীরপাড় মসজিদবাড়ি মহল্লায় রাতে মশার কয়েল জ্বালাতে গিয়ে জমে থাকা গ্যাসের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বিস্ফোরণে স্বামী-স্ত্রী গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে তাঁরা ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত দম্পতি স্থানীয় দুটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সংঘটিত এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুইতলা ভবনের নিচতলার একটি ভাড়া বাসায় ওই দম্পতি বসবাস করতেন। ঘটনার রাতে শোবার ঘরে গ্যাসলাইটার দিয়ে মশার কয়েল জ্বালানোর চেষ্টা করেন স্বামী মো. কাউসার। লাইটারের চকমকি জ্বালাতেই সারা ঘরে ছড়িয়ে থাকা জমে থাকা গ্যাসের কারণে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে স্বামী ও স্ত্রী উভয়েরই শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়।
তাদের আর্তচিৎকার শুনে গভীর রাতে আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং কোনোমতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরবর্তীতে দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতাল হয়ে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দগ্ধ কাউসারের শরীরের শতভাগ এবং তাঁর স্ত্রী রুবী আক্তারের শরীরের ৮৮ শতাংশ পুড়ে গেছে। চিকিৎসকদের মতে, তাঁদের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে দগ্ধ কাউসারের বাবা সিমান শেখ জানান, কক্ষটির ভেতরে কোনো ধরনের বৈধ বা অবৈধ রান্নার গ্যাসের সংযোগ ছিল না। তবে কক্ষটির জানালার বাইরে মূল গ্যাস পাইপলাইনের সংযোগ রয়েছে এবং রান্নাঘরটি ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। তাঁর ধারণা, বহিরাগত কোনো গ্যাসলাইন থেকে লিক হয়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে ঘরটিতে গ্যাস জমে ছিল, যার কারণে লাইটার জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে এই বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে।
এদিকে এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক নূর মোহাম্মদ জানিয়েছেন, পুলিশকে তাৎক্ষণিকভাবে কেউ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তবে সংবাদ পাওয়ার পর থেকে পুলিশ ঘটনাস্থল ও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং ঘটনাটি কীভাবে ঘটল তা খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
