কক্সবাজার জেলা সদরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক সাবেক সদস্যকে আটক করেছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উদ্ধারকৃত মাদকের পরিমাণ ২৮ হাজার পিস ইয়াবা বড়ি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮৪ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি বিলাসবহুল ল্যান্ড ক্রুজার জিপ গাড়িও জব্দ করা হয়, যার সামনে সেনাবাহিনীর মনোগ্রামসংবলিত স্টিকার লাগানো ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার সদর মডেল থানার একটি দল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নেয় এবং চেকপোস্ট বসায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তথ্য ছিল যে, একটি দামি জিপ গাড়িতে করে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে কক্সবাজার থেকে বড় চালান ঢাকায় পাচার করা হচ্ছে। রাত পৌনে নয়টার দিকে নির্দিষ্ট নম্বরের ল্যান্ড ক্রুজারটি সেখানে পৌঁছালে পুলিশ সেটিকে থামানোর সংকেত দেয়। তবে চালক নির্দেশ অমান্য করে গাড়িটি দ্রুত গতিতে চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ধাওয়া করে গাড়িটিকে আটক করতে সক্ষম হয়।
আটককৃত ব্যক্তির নাম ওবায়দুল হাসান (৪১)। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক ল্যান্স করপোরাল পদমর্যাদার সদস্য ছিলেন এবং ২০১৯ সালে চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় বা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় অবসর গ্রহণ করেন। তার বাড়ি বগুড়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাগুপাড়া এলাকায়। তবে তিনি বর্তমানে গাজীপুর জেলায় বসবাস করছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওবায়দুল দাবি করেছেন যে, বৃহস্পতিবার সকালে তিনি ওই গাড়িটি নিয়ে কক্সবাজারে আসেন এবং রাতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। তবে গাড়ির ভেতরে এত বিপুল পরিমাণ ইয়াবা কীভাবে এল এবং এর নেপথ্যে কারা জড়িত, সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মনে করছে, রাষ্ট্রীয় বা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের স্টিকার ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেওয়ার এক অভিনব কৌশল হিসেবে এই সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। এর আগেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের মনোগ্রাম বা স্টিকার লাগিয়ে মাদক পাচারের একাধিক ঘটনা ধরা পড়েছে। চলতি মাসের মাঝামা সময়ে কক্সবাজারের রামু উপজেলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকারযুক্ত একটি প্রাইভেট কার থেকে ছয় হাজার পিস ইয়াবাসহ তিন ব্যক্তিকে আটক করেছিল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে মাদক কারবারিরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও ভুয়া স্টিকার ব্যবহারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিচ্ছে।
এ ঘটনায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। আটক সাবেক সেনাসদস্যকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডের আবেদন করা হতে পারে বলে জানা গেছে। এই পাচার চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং এর মূল হোতারা কোথায় অবস্থান করছে, তা উদ্ঘাটনে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই ঘটনার গভေး অনুসন্ধান চালাচ্ছে যাতে দেশের ভেতর মাদক সরবরাহের মূল রুট ও সিন্ডিকেটগুলো পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
