যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণের পথে অন্যতম প্রধান বাধা আর্থিক সীমাবদ্ধতা দূর করতে প্রতিবছরের মতো এবারও ফুলব্রাইট ফরেন স্টুডেন্ট প্রোগ্রামের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন সরকার। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের এই স্কলারশিপটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ সুযোগ। বিশ্বের ১৬০টি দেশের প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থীকে এই বৃত্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মাস্টার্স ও পিএইচডি করার সুযোগ দেওয়া হয়। এটি কেবল টিউশন ফি মওকুফই করে না, বরং বিমানে যাতায়াত খরচ, মাসিক উপবৃত্তি, বইপত্র কেনার ব্যয় এবং ভিসা সহায়তাসহ যাবতীয় খরচ বহন করে।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এই কর্মসূচিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যারা উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করতে চান, তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার সুযোগ। বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কনিষ্ঠ থেকে মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এই বৃত্তির জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আবেদনকারীদের অবশ্যই স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম চার বছর মেয়াদি স্নাতক ডিগ্রিধারী হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মক্ষেত্রে অন্তত দুই বছরের পূর্ণকালীন কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
আবেদনের প্রক্রিয়াটি বেশ সুশৃঙ্খল। আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে এবং এর পাশাপাশি একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, তিনটি সুপারিশপত্র, আইইএলটিএস বা টোয়েফেল স্কোর এবং প্রয়োজনবোধে জিআরই বা জিম্যাট স্কোর জমা দিতে হবে। ইংরেজি ভাষায় সাবলীলতা এই স্কলারশিপের অন্যতম পূর্বশর্ত। টোয়েফেল আইবিটি-তে ন্যূনতম ৯০ অথবা আইইএলটিএস-এ কমপক্ষে ৭ স্কোর থাকা বাধ্যতামূলক।
আবেদন প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে ১১ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদনের সুযোগ থাকবে। আবেদনকারীদের একটি নিজস্ব লগইন অ্যাকাউন্ট তৈরি করে বিস্তারিত তথ্যসহ আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্র তৈরি করা। হেলথ সায়েন্স, সোশ্যাল সায়েন্স, ইকোনমিকস, বিজনেস, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এই বৃত্তির আওতায় পড়াশোনার সুযোগ পাওয়া যাবে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের ওয়েবসাইট অথবা dhakausexchanges@state.gov ঠিকানায় যোগাযোগ করা যাবে। উচ্চাকাঙ্ক্ষী শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি জীবন বদলে দেওয়ার মতো সুযোগ, যা তাদের ক্যারিয়ারের পরবর্তী ধাপে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
