বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই বিশ্বজুড়ে এক মহোৎসব, যেখানে মাঠের লড়াই ছাপিয়ে আবেগ আর উত্তেজনার পারদ ছড়িয়ে পড়ে প্রতিটি ঘরে। কিন্তু এই উৎসবের আবহে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ও পরীক্ষার সূচি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা আর স্কুলের পরীক্ষার সময়সূচির সংঘর্ষ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে বড় ধরনের চাপের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। একজন প্রবীণ লেখকের স্মৃতিকথা থেকে উঠে আসা সেই শৈশবের দিনগুলো আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয়, খেলাধুলা কেবল বিনোদন নয়, বরং এটি একটি আবেগের জায়গা। ষাটের দশকে সাদাকালো টিভির যুগে মোহাম্মদ আলী ক্লে-র মুষ্টিযুদ্ধ দেখার জন্য যে তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল, আজকের প্রজন্মের কাছে মেসি কিংবা নেইমারকে দেখা ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান সময়ে ফুটবল বিশ্বকাপের সময়সূচি আর দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরীক্ষার রুটিন যেন এক সমান্তরাল রেখায় চলছে। রাত জেগে খেলা দেখা এবং পরদিন সকালে পরীক্ষার খাতায় মনোযোগ দেওয়া একজন শিক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত কঠিন একটি চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে যখন আর্জেন্টিনা কিংবা ব্রাজিলের মতো দলের খেলা থাকে, তখন ভক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনায় মনোনিবেশ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার চেয়ে প্রিয় খেলোয়াড়ের খেলা দেখার প্রতি বেশি ঝোঁক দেখাচ্ছে, যা তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের মতে, পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণের সময় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বড় ধরনের উৎসবের কথা মাথায় রাখা প্রয়োজন। চার বছর পর পর আসা এই ফুটবল মহোৎসব যে উন্মাদনা সৃষ্টি করে, তা থেকে শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রাখা কঠিন। যদি পরীক্ষার সূচি খেলা শুরু হওয়ার আগে অথবা পরে সমন্বয় করা সম্ভব হতো, তবে শিক্ষার্থীরা যেমন পড়াশোনায় মনোযোগী হতে পারত, তেমনি তাদের মানসিক প্রশান্তিও বজায় থাকত। এটি কেবল একটি পরীক্ষার বিষয় নয়, বরং শিশুদের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশের সঙ্গেও জড়িত।
পরিশেষে, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় নমনীয়তার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শিক্ষা সংস্কারের এই সময়ে, পরীক্ষার রুটিন প্রণয়নে শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। খেলাধুলা এবং শিক্ষা—উভয়ই জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে আমরা যদি এই দুইয়ের মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরি করতে পারি, তবেই শিক্ষার্থীরা তাদের শৈশবের আনন্দ উপভোগের পাশাপাশি মেধার স্বাক্ষর রাখতে পারবে। বিশ্বকাপের এই উৎসবের দিনে শিক্ষার্থীদের ওপর পরীক্ষার অতিরিক্ত চাপ না প্রয়োগ করে তাদের সৃজনশীলতাকে বিকশিত করার সুযোগ দেওয়া বাঞ্ছনীয়।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
