রাজধানীর মিরপুরে ব্যবসায়ী আফরোজ উদ্দিনের পরিবারের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনা ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় জনমনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৩ জুন মিরপুর ২ নম্বর সেকশনে আফরোজ উদ্দিনের বাসভবন লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই, বুধবার রাতে তাঁর ছেলে মোহাইমিন ইসলাম ওরফে আশিকের ওপর হামলার চেষ্টা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, আলোচিত আফতাব উদ্দিন হত্যা মামলার সাক্ষ্যদান ও মামলা চালিয়ে যাওয়ার জের ধরে প্রভাবশালী সন্ত্রাসীরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের ওপর এই অমানবিক নির্যাতন ও হুমকি অব্যাহত রেখেছে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, বুধবার রাতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোটরসাইকেলে বাসায় ফেরার পথে মিরপুরের উত্তর বিশিল এলাকায় সালাউদ্দিন ও করিমের নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি মোহাইমিনের গতিরোধ করার চেষ্টা করে। তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং পুরো পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হুমকি দেয়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার মিরপুর ও শাহ আলী থানায় পৃথক দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। আফরোজ উদ্দিন অভিযোগ করেন, ককটেল হামলার সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারীদের স্পষ্ট শনাক্ত করা সত্ত্বেও পুলিশ এখনো তাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে মিরপুরের ব্যবসায়ী আফতাব উদ্দিনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আফরোজ উদ্দিন বাদী হয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদতসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে এই মামলাটি বিভিন্ন আইনি জটিলতা ও রাজনৈতিক প্রভাবের মুখে পড়েছে। মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য বারবার হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং সাক্ষীদের ভয় দেখানো হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩-এ সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে থাকলেও বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে আসামিরা মরিয়া হয়ে উঠেছে।
মিরপুর বিভাগের পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকা এই সন্ত্রাসীরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের, এই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারই তার একটি বড় পরীক্ষা বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
