আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার সীমান্ত অঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গত বুধবার বেলুচিস্তান সীমান্তে আফগান তালেবান বাহিনীর পক্ষ থেকে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তান। দেশটি দাবি করেছে যে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা চারটি ড্রোন তারা ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। এর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে পাকিস্তান আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে বিমান হামলা চালিয়েছিল, যা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সুপ্ত উত্তেজনাকে নতুন করে উসকে দিয়েছে।
২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবানের পুনরায় ক্ষমতায় আসাকে এক সময় পাকিস্তান তাদের ‘কৌশলগত বিজয়’ বা স্ট্র্যাটেজিক অ্যাসেট হিসেবে দেখেছিল। তৎকালীন নীতিনির্ধারকদের ধারণা ছিল যে, কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকবে। তবে বাস্তবে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে দুই পক্ষই প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে লিপ্ত, যা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই সংঘাতের মূলে রয়েছে বেশ কিছু জটিল সমীকরণ। প্রথমত, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ইস্যু। পাকিস্তান বরাবরই অভিযোগ করে আসছে যে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে টিটিপি তাদের দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অন্যদিকে, ডুরান্ড লাইন বা আফগান-পাকিস্তান সীমান্ত সীমানা নিয়ে তালেবান প্রশাসনের অনড় অবস্থান দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটিয়েছে। এছাড়া, এই অঞ্চলে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও কৌশলগত সম্পৃক্ততাকে পাকিস্তান তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে।
তালেবান বাহিনী এখন যুদ্ধক্ষেত্রে আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার করছে, যা তাদের সামরিক সক্ষমতার নতুন দিক উন্মোচন করেছে। পাকিস্তান বর্তমানে ‘নিয়ন্ত্রিত উত্তেজনা’ বা কন্ট্রোলড টেনশন নীতি অনুসরণ করছে, যার মাধ্যমে তারা সংঘাতকে একটি নির্দিষ্ট সীমায় আটকে রাখতে চায়। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের মধ্যে এই পারস্পরিক ব্ল্যাকমেইল ও অবিশ্বাসের চক্র শুধু সীমান্তেই সীমাবদ্ধ নেই। এটি দীর্ঘমেয়াদে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল এখন এই পরিস্থিতির দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে, কারণ আফগানিস্তানের বর্তমান অস্থিরতা আঞ্চলিক বাণিজ্যে ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
