মাদারীপুর সদর উপজেলায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু আয়েশা আক্তারসহ দুই ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। বুধবার (আজ) ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মস্তফাপুর এলাকায় দ্রুতগামী একটি কাভার্ড ভ্যান পথচারীদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত আয়েশা তার স্বজনদের সাথে রাস্তা পার হওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণহীন কাভার্ড ভ্যানটি তাদের সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই শিশু আয়েশা ও অপর এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে দ্রুত মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক কাভার্ড ভ্যানটি রেখে চালক ও তার সহযোগী পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ ঘাতক যানটিকে জব্দ করেছে এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নিহতদের মরদেহ বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
সড়ক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মস্তফাপুর এলাকাটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায়ই এখানে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে পালন না করার কারণেই এমন প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মহাসড়কগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশনা থাকলেও মাঠপর্যায়ে এর প্রতিফলন কম দেখা যাচ্ছে। সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই মহাসড়কে গতিরোধক স্থাপন ও ট্রাফিক পুলিশের কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন।
মাদারীপুর হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাভার্ড ভ্যানটির চালককে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান শুরু হয়েছে। আইন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দাবি জানিয়েছেন, যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইন অমান্যকারী চালকদের বিচারের আওতায় আনা হয় এবং মহাসড়কে পথচারীদের চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
