যুক্তরাষ্ট্রের আড়াইশ বছরের পথচলা বা ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি ঘিরে দেশটির অভ্যন্তরে এক গভীর অস্বস্তি ও মেরুকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের পরিকল্পনা চলছে, অন্যদিকে ফেডারেল কর্মচারীদের একটি বড় অংশ চরম অনিশ্চয়তা, ক্লান্তি এবং ক্ষোভের মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন। সাধারণত জাতীয় উৎসবগুলো দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়, কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই উদযাপনগুলো যেন ভিন্ন রূপ নিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই উৎসব এখন রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ারে পরিণত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে, যা সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে বিভাজন আরও প্রকট করে তুলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার এই ঐতিহাসিক মাইলফলকটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন দেশটি অভ্যন্তরীণভাবে চরম রাজনৈতিক মেরুকরণের শিকার। ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ তুলেছেন যে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ রাজনৈতিক দলগুলো এই জাতীয় উৎসবকে নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন। ফলে, যেখানে দেশের ঐক্যের সুর থাকার কথা ছিল, সেখানে এখন পক্ষ-বিপক্ষের লড়াই স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক মহলেও আমেরিকার এই বিশেষ দিনটি নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে; অনেক মিত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ মনে করছে, বিশ্বনেতা হিসেবে আমেরিকার ভূমিকা বর্তমানে বেশ বিতর্কিত এবং অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে।
ফেডারেল কর্মচারীদের মধ্যে এই উৎসব নিয়ে বিশেষ উদ্বেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কাজের পরিবেশ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তাদের মধ্যে এক ধরনের পেশাগত ক্লান্তি কাজ করছে। অনেকে মনে করেন, বিশাল বাজেটের এই উৎসবের চেয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রশাসনিক সংস্কার এখন বেশি জরুরি। এছাড়া, স্বাধীনতা দিবসের প্যারেড বা অনুষ্ঠানগুলো কি কেবল উৎসবের আমেজ বহন করবে, নাকি তা রাজনৈতিক সমাবেশের রূপ নেবে—তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে, আমেরিকার ২৫০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের এই আয়োজন জাতীয় ঐক্যের পরিবর্তে যেন দেশের বর্তমান গভীর রাজনৈতিক সংকটেরই প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, এই মেরুকরণ যদি অব্যাহত থাকে, তবে তা আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদী গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
