যুক্তরাষ্ট্রের আড়াইশ বছরের পথচলা বা ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের প্রাক্কালে দেশটি এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। মার্কিন গণতন্ত্রের এই ঐতিহাসিক মাইলফলকটি এবার কোনো উৎসবের আমেজ নয়, বরং তীব্র রাজনৈতিক বিভাজন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাববলয়ের আবর্তে বন্দি হয়ে পড়েছে। পলিটিকো, সিএনএন এবং দ্য গার্ডিয়ানের মতো শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্পের রাজনৈতিক দর্শন এবং তার অনুসারীদের কর্মতৎপরতা মার্কিন ঐতিহ্যের মূল ভিত্তিকেই প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। একদিকে ট্রাইকর্ন হ্যাট পরিহিত ঐতিহাসিক আমেজ, অন্যদিকে ট্রাম্পের নির্বাচনী জনসভার উত্তাপ—এই দুইয়ের দোলাচলে মার্কিন সাধারণ নাগরিকরা এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন রাজনীতির চিরাচরিত ধারাকে যেভাবে পাল্টে দিয়েছেন, তা দেশটির ২৫০তম বর্ষপূর্তির আয়োজনে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ পত্রিকা এটিকে একটি ‘রেকিং-বল বিপ্লব’ বা ধ্বংসাত্মক পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। যেখানে একসময় যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বমঞ্চে একটি স্থিতিশীল ও দায়িত্বশীল শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতো, সেখানে বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা মিত্র দেশগুলোর মধ্যেও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি এবং তার উগ্র জাতীয়তাবাদী অবস্থান দেশটির দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট করেছে বলে অনেক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন।
ওয়াশিংটন পোস্টের সম্পাদকীয় বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, আমেরিকা তার আড়াইশ বছর পূর্তিতে এর চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিশীল এবং ঐক্যবদ্ধ উদযাপনের দাবিদার ছিল। কিন্তু বর্তমানে দেশটি এমন এক মেরুকরণের শিকার, যেখানে জাতীয় ঐক্যের চেয়ে দলীয় স্বার্থ ও ব্যক্তিগত অনুসারী গোষ্ঠী বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এই বিভাজন কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বিশ্বজুড়ে মার্কিন প্রভাবের গ্রহণযোগ্যতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্থান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে।
পরিশেষে, আমেরিকার ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেবল একটি ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টানোর বিষয় নয়, বরং এটি মার্কিন গণতন্ত্রের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির নীতিনির্ধারক ও সাধারণ নাগরিকদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো—কীভাবে তারা নিজেদের অতীত ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যকে এই তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণের ঊর্ধ্বে নিয়ে আসবে। বিশ্ববাসী এখন তাকিয়ে আছে, আমেরিকা তার এই সংকট কাটিয়ে আবারও একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক আদর্শের দেশ হিসেবে ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না, নাকি এই মেরুকরণই দেশটির দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতার কারণ হয়ে থাকবে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
