ফুটবল বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার হতাশাজনক পারফরম্যান্সের রেশ কাটতে না কাটতেই এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। টুর্নামেন্ট থেকে দলের দ্রুত বিদায়ের পর তীব্র জনরোষ এবং প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়ে দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন জাতীয় দলের প্রধান কোচ হং মিয়ুং-বো। ৫৭ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি ফুটবলার ও কোচ দলের সঙ্গে দেশে ফেরার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই লস অ্যাঞ্জেলেসের উদ্দেশে রওনা হন, যা ক্রীড়াঙ্গনে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যর্থতা দেশটির ফুটবল সমর্থকদের মনে গভীর ক্ষোভের সঞ্চার করে। চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে টানা পরাজয় কোরিয়ার বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে দেয়। এই ব্যর্থতার দায়ভার সরাসরি এসে পড়ে কোচ হং মিয়ুং-বোর ওপর। খোদ দেশটির প্রেসিডেন্ট এই ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই তিনি প্রধান কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তবে পদত্যাগই শেষ রক্ষা হয়নি; বরং সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করে।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘ও’গ্লোবো’ এবং স্থানীয় কোরিয়ান গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হং মিয়ুং-বো কেবল সমালোচনার শিকারই হননি, বরং প্রতিনিয়ত মৃত্যুর হুমকি পেতে শুরু করেন। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক হয়ে পড়ে যে, নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দলের অভ্যন্তরীণ কোনো কোন্দলের কথা অস্বীকার করলেও প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
কোচের ওপর এই ক্ষোভ কেবল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা মাঠের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে রাজপথেও। বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ‘এই কোচকে স্বাগত জানানো হবে না’—এমন সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবল ইতিহাসে বিরল। খেলোয়াড় হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং ক্লাব পর্যায়ে সফল কোচ হওয়া সত্ত্বেও জাতীয় দলের হয়ে এই বিশ্বকাপ তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে দুঃসহ অভিজ্ঞতায় পরিণত হলো। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, তবে এই ঘটনার রেশ দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
