মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সম্ভাব্য শুল্ক বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতি বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও শ্লথ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া পণ্যের একক বৃহত্তম বাজার হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে দেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের বড় অংশই মার্কিন বাজারে যায়। এডিবি উল্লেখ করেছে, যদি ওয়াশিংটন সব ধরনের আমদানির ওপর শুল্ক বাড়ায়, তবে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হ্রাস পাবে। এর ফলে ভিয়েতনাম, ভারত বা কম্বোডিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়তে পারে, যা দেশের কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে নানা অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট এবং জ্বালানি সংকটের মধ্যে রপ্তানি আয়ে কোনো ধরনের ধাক্কা লাগলে তা অর্থনীতির ওপর দ্বিগুণ চাপ সৃষ্টি করবে। এডিবির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রপ্তানি আয় কমে গেলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ আরও বাড়বে এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রা টাকার অবমূল্যায়ন ত্বরান্বিত হতে পারে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এডিবি বাংলাদেশকে বেশ কিছু নীতিগত সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ। শুধু তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভর না করে চামড়া, ওষুধ, আইটি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের বিকাশ ঘটানো এখন সময়ের দাবি। এছাড়া, মার্কিন প্রশাসনের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনা জোরদার করা এবং শুল্কমুক্ত সুবিধা বা বিশেষ ছাড় পাওয়ার চেষ্টা করা অত্যন্ত জরুরি। একই সাথে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বন্দর ও লজিস্টিকস খাতের আধুনিকায়ন প্রয়োজন।
পরিশেষে, এডিবির এই সতর্কতা বাংলাদেশকে তার ভবিষ্যৎ বাণিজ্য কৌশল পুনর্নির্ধারণের একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। বিশ্ব অর্থনীতির এই অস্থিতিশীল সময়ে শুধুমাত্র একক কোনো বাজারের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা কমিয়ে নতুন নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমেই কেবল এই সম্ভাব্য সংকট এড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন দেশের অর্থনীতিবিদরা।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
