বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের বিভিন্ন ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিতর্কিত মন্তব্য প্রায়শই বিশ্বজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। এবার শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্য এক অভিনব সুযোগ তৈরি হয়েছে, যেখানে তারা চাইলে সরাসরি ইলন মাস্কের মালিকানাধীন বা তার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত কোনো সংস্থায় বিনিয়োগ না করেই নিজেদের পোর্টফোলিও সাজাতে পারবেন। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে এমন দুটি নতুন এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) চালু করা হয়েছে, যা সুনির্দিষ্টভাবে ইলন মাস্কের সমস্ত কোম্পানিকে বিনিয়োগ তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। এর অর্থ হলো, এই ফান্ডগুলোতে বিনিয়োগ করলে টেসলা বা স্পেসএক্স-এর মতো বড় বড় সংস্থায় কোনো অর্থ যাবে না।
সাধারণত এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড বা ইটিএফ হলো এমন এক ধরণের বিনিয়োগ মাধ্যম, যা বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের একটি সমন্বিত রূপ। অনেক বড় বড় বৈশ্বিক ইটিএফ-এ টেসলার মতো প্রযুক্তি জায়ান্টগুলোর বড় অংশীদারিত্ব থাকে। তবে নতুন চালু হওয়া এই বিশেষ ইটিএফ দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন নীতিতে পরিচালিত হবে। ফান্ড পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেসব বিনিয়োগকারী ইলন মাস্কের খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিতর্কিত পোস্ট এবং তার কোম্পানিগুলোর অতি-মূল্যায়ন নিয়ে শঙ্কিত, তাদের লক্ষ্য করেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ফান্ডগুলোর মূল লক্ষ্য হলো মাস্কের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাবমুক্ত একটি স্থিতিশীল বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন কোম্পানিগুলো যেমন বিপুল মুনাফা দিতে পারে, তেমনি এর পেছনে রয়েছে চরম অস্থিরতার ঝুঁকি। বিশেষ করে টুইটার (বর্তমানে এক্স) ক্রয়ের পর থেকে মাস্কের মনোযোগের ঘাটতি এবং তার রাজনৈতিক ও সামাজিক মন্তব্য টেসলার শেয়ার মূল্যে বড় ধরণের প্রভাব ফেলেছে। অনেক সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী মনে করেন, একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত আচরণের ওপর কোনো কোম্পানির ভবিষ্যৎ এতটা নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। একে কর্পোরেট পরিভাষায় ‘কি-ম্যান রিস্ক’ (Key-Man Risk) বলা হয়। এই ঝুঁকি এড়াতে এবং পোর্টফোলিওতে বৈচিত্র্য আনতে এই ধরনের ‘মাস্ক-মুক্ত’ ফান্ডের চাহিদা তৈরি হয়েছে।
এই নতুন আর্থিক পণ্যটি বাজারে আসার ফলে ওয়াল স্ট্রিটে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে আধুনিক পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীরা কেবল লভ্যাংশ বা মুনাফাই দেখছেন না, বরং কোম্পানির সুশাসন এবং নেতৃত্বের নৈতিকতাকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন। যদিও টেসলা বা স্পেসএক্স-এর মতো উচ্চ প্রবৃদ্ধিসম্পন্ন কোম্পানিকে বাদ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে এই ফান্ডগুলো কতটা লাভজনক হবে, তা নিয়ে বাজার বিশেষজ্ঞদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে। তবে ব্যক্তিকেন্দ্রিক ঝুঁকি এড়াতে ইচ্ছুক রক্ষণশীল বিনিয়োগকারীদের কাছে এই ইটিএফ দুটি একটি চমৎকার বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
