মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার সমস্ত প্রচেষ্টা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সম্প্রতি হওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতিকে ‘অকার্যকর’ এবং ‘সমাপ্ত’ বলে ঘোষণা করার পর দুই দেশের সামরিক বাহিনী একে অপরের ওপর নতুন করে তীব্র হামলা শুরু করেছে। লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও একটি পূর্ণাঙ্গ ও ভয়াবহ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, মার্কিন বিমান বাহিনী ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বিভিন্ন কৌশলগত অবস্থান ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করেছে। এর জবাবে ইরানও লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, মার্কিন আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং যেকোনো মূল্যে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে পুরো অঞ্চল জুড়ে এখন চরম যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগরে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ট্যাংকার হামলা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটাতে পারে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, ট্যাংকার হামলার মাধ্যমে ইরান হয়তো অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি সামরিক চাল চালছে, যা শেষ পর্যন্ত একটি বিধ্বংসী আঞ্চলিক যুদ্ধকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে।
এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে তাদের নিহত শীর্ষ নেতার দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এই ঘটনাটি ইরানি জনগণের মধ্যে তীব্র মার্কিন-বিরোধী ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া লাখ লাখ মানুষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার স্লোগান দেয়। দেশটির সামরিক কমান্ডাররা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তাদের নেতার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে তারা মার্কিন বাহিনীকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সম্পূর্ণ বিতাড়িত করতে বদ্ধপরিকর।
আন্তর্জাতিক মহল এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছে। জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে উভয় পক্ষকে চরম সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি এই সংঘাত অবিলম্বে কূটনীতির মাধ্যমে থামানো না যায়, তবে তা কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বাতিলের ঘোষণা এবং ইরানের অনমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে এক নতুন ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
