রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের খবরকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ এবং অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো দাবি জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, কেবল দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোই শেষ কথা হতে পারে না; বরং রাষ্ট্রীয় পদে থেকে যেসব অসংগতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। পদত্যাগের প্রেক্ষাপট তৈরি হওয়ার পর এক যৌথ বিবৃতিতে এবি পার্টির নেতারা রাষ্ট্রপতির সার্বিক কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করার ওপর জোর দেন।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমেই ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটেছিল এবং আন্দোলনের পরপরই রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে তাঁর পদ থেকে অপসারণ করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কৌশলগত মতভিন্নতার কারণে সে সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া সম্ভব হয়নি। এবি পার্টির নেতৃত্বের অভিযোগ, ফ্যাসিবাদী শাসনের দোসর হিসেবে ভূমিকা রাখা রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) শুরু থেকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগে মাত্র ৩৬ দিন সময় লেগেছিল। অথচ অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা বিতর্কিত ব্যক্তিকে অপসারণ করতে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার শক্তিতে থাকা দলটির প্রায় ১৫৮ দিন সময় লেগে গেল। এই বিলম্বকে ঘিরে এবি পার্টি গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং একে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের গাফিলতি হিসেবে অভিহিত করেছে।
এবি পার্টির শীর্ষ নেতারা তাঁদের বিবৃতিতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদে দেশের আর্থিক খাতে বিশেষ করে ব্যাংকিং সেক্টরে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাট, অর্থ পাচার এবং অনিয়মের সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগাযোগের অভিযোগসমূহ পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান। দলটির মতে, বিগত আওয়ামী সরকারের সময় দেশের অর্থব্যবস্থায় যে অরাজকতা তৈরি হয়েছিল, তাতে শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে না দেখলে রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবি পার্টির এই বক্তব্য নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং সংবিধান সম্মত প্রক্রিয়া বজায় রাখার পাশাপাশি পূর্ববর্তী অনিয়মের বিচারকাজ সম্পন্ন করা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। এবি পার্টি স্পষ্ট করেছে যে, দেশের গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ ও নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক আপস বা শিথিলতা সাধারণ জনগণের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত অভ্যুত্থানের চেতনাকে ব্যাহত করবে। ফলে অনতিবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করে আইনি প্রক্রিয়া শুরুর তাগিদ দিয়েছে দলটি।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
