সংসদে বিরোধী দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে চলা সমালোচনার কঠোর জবাব দিয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেছেন, সরকারের বিরোধিতা মানে কি গাড়ি ভাঙচুর আর অগ্নিসংযোগ করে দেশজুড়ে নাশকতা সৃষ্টি করা? শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
‘জুলাই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে পেশাজীবীদের দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা এবং জুলাই ডকুমেন্টারি পরিবেশনার আয়োজন করে অ্যাগ্রিকালচারিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে জামায়াতের শীর্ষ এই নেতা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, রাষ্ট্র সংস্কার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল দর্শন থেকে ক্ষমতাসীনদের বিচ্যুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সংসদে জামায়াতের নমনীয় বা ‘কুসুম কুসুম’ বিরোধিতা নিয়ে যারা সমালোচনা করেন, তাদের উদ্দেশ্যে গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের জানমালের ক্ষতি না করে গঠনমূলক সমালোচনা করা কি অপরাধ? গাড়ি পুড়িয়ে এবং সহিংসতা চালিয়ে আন্দোলন করলেই কেবল তাকে প্রকৃত বিরোধিতা বলা যায় না—এমন মন্তব্য করে তিনি জানান, জামায়াত সর্বদা দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে ইতিবাচক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত জনআকাঙ্ক্ষাকে আজ ভুলতে বসেছে ক্ষমতাসীনরা। ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর যে নতুন সংবিধানের রূপরেখা নিয়ে জাতির ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল, সেখান থেকে সরে এসে বিএনপি এখন পুরনো কর্তৃত্ববাদী ধারায় ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাই সনদের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে সাংবিধানিক সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ ১২ থেকে ১৪টি প্রস্তাবে ভিন্নমত জানিয়ে বিএনপি শুভংকরের ফাঁকি তৈরি করছে।
গোলাম পরওয়ার জোর দিয়ে বলেন, দেশের কোটি কোটি ভোটার গণভোটের মাধ্যমে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। ফলে সরকারের পক্ষ থেকে যেসব বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করা হয়েছে, তা জনগণের রায়ের মাধ্যমে ইতিমধ্যে খারিজ হয়ে গেছে। সাংবিধানিক পদে প্রধানমন্ত্রী ও নির্বাহী বিভাগের অতিরিক্ত ক্ষমতার রাশ টেনে ধরা না গেলে ভবিষ্যতে যেকোনো সরকারের আমলেই ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি ঘটার শঙ্কা থেকে যায় বলে তিনি সতর্ক করেন।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কার পরিষদের বৈঠক না ডেকে সরকার একটি বড় সুযোগ বা ট্রেন মিস করেছে। তবে মাঝপথ থেকেও যদি আলোচনার টেবিলে বসে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে আইন ও সংবিধান সংস্কারের পথ উন্মুক্ত করা যায়, তবেই দেশ দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক সংঘাত ও অস্থিরতা থেকে মুক্তি পাবে।
অ্যাগ্রিকালচারিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক এ টি এম মাহবুব-ই-ইলাহী তাওহীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. হাসিনুর রহমান, আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, ডাকসুর ভিপি মোড. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম) এবং শহীদ সাফওয়ান আখতার সদ্যর পিতা মো. আক্তারুজ্জামান লিটন প্রমুখ। বক্তারা সকলেই জুলাইয়ের চেতনা সমুন্নত রেখে একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
