জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের মূল লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। সম্প্রতি রাজধানীর পরীবাগে সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে আয়োজিত এক সাধারণ সভায় সংগঠনটির নেতারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। বক্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি শোষণমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন, যা এখনো পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি।
বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে সভায় বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। নেতারা বলেন, বিচারের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের, ত্রুটিপূর্ণ বিচারপ্রক্রিয়া এবং আটক বাণিজ্য প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সভায় ক্রমবর্ধমান বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং রাষ্ট্রীয় হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাগুলোর তীব্র নিন্দা জানানো হয়। বিশেষ করে খাগড়াছড়ির রামগড়ে ইউপিডিএফ কর্মী ববিন ত্রিপুরা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
শ্রমিক অধিকারের প্রশ্নে অধিকার কমিটি গাজীপুরের পোশাকশ্রমিক রুবিনা বেগমের মৃত্যুতে কারখানার কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলাকে দায়ী করেছে। অসুস্থ হওয়ার পরেও ছুটি না দেওয়া এবং চিকিৎসার সুযোগ না থাকা অমানবিক বলে মন্তব্য করেন নেতারা। শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করা এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতে শ্রম মন্ত্রণালয়কে কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। সভায় জানানো হয়, গাজীপুরের সাতটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, ছাঁটাই এবং অবহেলাজনিত মৃত্যুর প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।
সবশেষে, জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি বাতিলের দাবিতে আগামী ১৭ জুলাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে অধিকার কমিটি। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বিতর্কিত বাণিজ্যচুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনার দাবি তোলা হয়েছে। সভায় অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, ডা. হারুন উর রশীদসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সব ধরনের ‘মব সন্ত্রাস’ বা গণপিটুনির মতো সহিংসতা পরিহার করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
