বিশ্বকাপের মঞ্চে ৪৮ দলের অংশগ্রহণে এবারের আসরটি যেমন রোমাঞ্চকর হয়ে উঠেছে, তেমনি বড় দলগুলোর জন্য তৈরি হয়েছে অগ্নিপরীক্ষার পরিবেশ। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় রাউন্ডের লড়াই যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখন সবার নজর এখন আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে ম্যাচের দিকে। কাগজে-কলমে আর্জেন্টিনা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে ফেবারিট হলেও, প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে এবারের বিশ্বকাপে রূপকথার গল্প লিখেছে। অভিষেক আসরেই স্পেন ও উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলকে রুখে দিয়ে নকআউটে জায়গা করে নেওয়া এই দলটি এখন বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি তার শিষ্যদের সতর্ক করে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, কেপ ভার্দেকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘কেপ ভার্দে কোনো সাধারণ দল নয়, তারা একটি অত্যন্ত কঠিন প্রতিপক্ষ। স্পেন ও উরুগুয়ের মতো দলের বিপক্ষে তারা যে সাহসিকতা দেখিয়েছে, তা তাদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেয়।’ স্কালোনির মতে, বর্তমান ফুটবলে কোনো দলকেই ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। বিশেষ করে জর্ডানের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয়ের পর স্কালোনি বারবারই মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, প্রতিটি ম্যাচই এখন নকআউট লড়াইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ। কেপ ভার্দে দলের দ্রুতগতির ফুটবল এবং সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগ আর্জেন্টিনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
মাত্র ৫ লাখ জনসংখ্যার দেশ কেপ ভার্দে বিশ্বকাপে তাদের চমকপ্রদ পারফরম্যান্স দিয়ে ফুটবল বিশ্বের নজর কেড়েছে। গ্রুপ এইচ-এ স্পেনের মতো জায়ান্টদের পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে থেকে নকআউটে ওঠা দলটির আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। দলটির গোলরক্ষক ভোজিনহা লিওনেল মেসির বিপক্ষে মাঠে নামাকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম স্বপ্ন হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, কেপ ভার্দের সহকারী কোচ হুমবার্তো বেতেনকোর্ট জানিয়েছেন, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলা তাদের জন্য বড় সম্মানের, তবে তারা নিজেদের স্বাভাবিক ফুটবল খেলে আরও একটি অঘটন ঘটাতে মরিয়া।
লিওনেল মেসি বর্তমানে দুর্দান্ত ফর্মে থাকলেও, স্কালোনি ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে দলীয় সমন্বয়ের ওপর বেশি জোর দিচ্ছেন। তিনি মনে করেন, আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ যতই শক্তিশালী হোক না কেন, রক্ষণভাগ ও মাঝমাঠের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বজায় রাখা জরুরি। ভক্তদের প্রত্যাশা, আর্জেন্টিনা তাদের চ্যাম্পিয়ন সুলভ দাপট বজায় রেখে পরবর্তী রাউন্ডে পা রাখবে। তবে স্কালোনির এই সতর্কবার্তা মূলত দলের ভেতরকার আত্মতুষ্টি দূর করার একটি কৌশল, যাতে কোনোভাবেই কেপ ভার্দেকে অবমূল্যায়ন করা না হয়। এখন দেখার বিষয়, মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্স নাকি কেপ ভার্দের অদম্য লড়াই—শেষ হাসি কে হাসে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
