চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিনে পরীক্ষার্থীদের বিশাল একটি অংশ অনুপস্থিত থাকায় শিক্ষা অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রথম দিনে সারা দেশে মোট ২৪ হাজার ৭৮৪ জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন, যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় উদ্বেগজনকভাবে বেশি। তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রথম দিনে অনুপস্থিতির সংখ্যা ছিল ১৯ হাজার ৭৫৯ জন এবং তার আগের বছর ছিল ১৫ হাজার ২০৩ জন। এই ক্রমবর্ধমান অনুপস্থিতি দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকরা।
পরিসংখ্যান বলছে, এবারের এইচএসসি পরীক্ষার চিত্রটি বেশ হতাশাজনক। গত দুই বছর আগে এসএসসি পাস করে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে এবার এইচএসসি পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছেন মাত্র সাড়ে ৯ লাখ শিক্ষার্থী। অর্থাৎ, নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩৬ শতাংশই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না। বিশেষ করে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এই ঝরে পড়ার হার আরও বেশি—যথাক্রমে ৪৪ শতাংশ ও ৫৪ শতাংশ। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ক্ষেত্রে এই হার ৩৩ শতাংশ। সব মিলিয়ে নিয়মিত-অনিয়মিত মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থীর জন্য ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দিনে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় ১৭ হাজার ২৩৩ জন অনুপস্থিত ছিলেন এবং ৫ জন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন। এছাড়া মাদ্রাসা বোর্ডে ৪ হাজার ৪৭৮ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৩ হাজার ৭৩ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। এই ব্যাপক অনুপস্থিতি এবং ঝরে পড়ার বিষয়টি নিয়ে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে উদ্বেগ প্রকাশ করেন শিক্ষা উপদেষ্টা। তিনি একে একটি ‘খারাপ সূচক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, অতীতে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থী বিভিন্ন কারণে ঝরে পড়লেও এবার তা বহুগুণ বেড়েছে।
শিক্ষার গুণগত মান ও শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, বিগত দিনের তুলনায় পরীক্ষার পরিবেশে কড়াকড়ি আরোপের ফলে প্রস্তুতিহীন অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন। তবে এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি মনে করেন, ঝরে পড়ার এই হার রোধ করতে হলে শিক্ষক প্রশিক্ষণের মান উন্নয়ন এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পদ্ধতিকে আরও আকর্ষণীয় ও কার্যকর করতে হবে। শিক্ষার্থীদের কেন এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা থেকে বিচ্যুত হচ্ছে, তার কারণ অনুসন্ধানে আরও গভীর গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে এই সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যাতে আগামী দিনগুলোতে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
