বাংলাদেশে সাইবার নিরাপত্তার আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই গুরুত্বপূর্ণ আইনি কাঠামোটি পর্যালোচনার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমান সময়ে সাইবার অপরাধের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি এবং প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই আইনটিকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যেই সরকার এই বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
গঠিত এই মন্ত্রিসভা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এই পাঁচজন নীতিনির্ধারক সম্মিলিতভাবে নতুন আইনের খসড়াটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করবেন। তারা নিশ্চিত করবেন যে, প্রস্তাবিত আইনটি যেন নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা, সাইবার অপরাধ দমন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে ডিজিটাল নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইনগুলোর বিষয়ে অতীতে বিভিন্ন মহলে যে উদ্বেগ ছিল, তা নিরসন করে একটি গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকারবান্ধব আইনি কাঠামো তৈরির দিকেই সরকারের বিশেষ নজর রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই কমিটি খসড়া আইনটির বিভিন্ন ধারা উপধারা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশমালা প্রণয়ন করবে। পরবর্তীতে এই সুপারিশগুলো মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হবে এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের পর তা জাতীয় সংসদে আইন হিসেবে পাস হওয়ার প্রক্রিয়ায় যাবে।
সাইবার সুরক্ষা আইনের এই সংশোধন প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় ইন্টারনেটের অপব্যবহার, গুজব ছড়ানো এবং ডিজিটাল জালিয়াতি প্রতিরোধে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর আইনের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে, আইনটি যেন কোনোভাবেই সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার খর্ব করার হাতিয়ার না হয়ে ওঠে, সে বিষয়েও কমিটি সতর্ক থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা এই খসড়াটি চূড়ান্ত করার সময় অংশীজনদের মতামতকেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, এই উদ্যোগটি ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট ও নিরাপদ সাইবার সমাজ গড়ার পথে একটি মাইলফলক হিসেবে গণ্য হতে পারে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
