ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার সাম্প্রতিক এক ব্যাপক ও ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২০ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। যুদ্ধের ইতিহাসে অন্যতম নৃশংস এই আক্রমণে কিয়েভের বেশ কিছু আবাসিক এলাকা ও জনবহুল স্থাপনা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাশিয়ার ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রাজধানীসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরকে লক্ষ্য করে নিক্ষিপ্ত হয়, যা ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চরম চাপের মুখে ফেলেছে। এই হামলার ঘটনায় আহত হয়েছে আরও বহু মানুষ, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, রাশিয়ার এই বর্বরোচিত হামলার পাল্টা জবাব দিতে ইউক্রেনও মরিয়া হয়ে উঠেছে। কিয়েভে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার তেল শোধনাগার এবং জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। মস্কোর জ্বালানি খাতের ওপর এই সিরিজ আক্রমণ রাশিয়ার অর্থনীতিকে লক্ষ্য করে চালানো একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইউক্রেনের এই পাল্টা অভিযানের ফলে রাশিয়ার বেশ কয়েকটি তেল স্থাপনায় আগুন ধরে যায় এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি সংঘাতের পাশাপাশি রাশিয়ার অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড দুর্বল করে দেওয়াই এখন কিয়েভের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। রাশিয়ার নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ পরিবর্তনের আশঙ্কায় পোল্যান্ডের সামরিক বাহিনী তাদের যুদ্ধবিমানগুলোকে সতর্ক অবস্থায় রেখেছে এবং আকাশসীমা সুরক্ষায় বাড়তি সতর্কতা জারি করেছে। ফিনল্যান্ডও তাদের আকাশসীমার ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে। আন্তর্জাতিক মহলে রাশিয়ার এই আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, ইউক্রেনের ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হতে পারে।
এই সংঘাত বিশ্ব রাজনীতি ও বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ যেভাবে ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে, তাতে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে আসছে। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি আরও আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ভয়াবহ রক্তক্ষয় বন্ধে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের তাগিদ দিচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই তাদের সামরিক অবস্থান শক্ত করার দিকেই মনোনিবেশ করছে, যা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ইঙ্গিত দেয়।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
