মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সরকারি জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির (এএ) মধ্যে চলমান সশস্ত্র সংঘাতের তীব্রতা গত কয়েক দিনে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। মংডু টাউনশিপসহ রাখাইনের বিভিন্ন অঞ্চলে জান্তা বাহিনীর যুদ্ধবিমান থেকে চালানো টানা বিমান হামলা এবং গোলাবর্ষণের বিকট শব্দে টেকনাফ ও উখিয়ার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সীমান্তের ওপারে চলমান এই ভয়াবহ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের ভূখণ্ডেও। বিস্ফোরণের তীব্র কম্পনে নাফ নদীর এপারে অবস্থিত ঘরবাড়ি কেঁপে উঠছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ও কোস্টগার্ড সীমান্তে তাদের টহল কার্যক্রম বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে নাফ নদীর জলপথে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে। টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, হ্নীলা, হোয়াইক্যং ও নেটংপাড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকাগুলোতে বিজিবির অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অনুপ্রবেশের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে প্রশাসন ও স্থানীয়রা সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন।
সীমান্তের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, রাখাইনের রাজধানী সিত্তে থেকে উড়ে আসা যুদ্ধবিমানগুলো মংডু টাউনশিপের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করছে। গত বুধবার রাতে প্রায় দুই ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত ২৭টি বোমা হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। আরাকান আর্মির শক্ত অবস্থানের বিপরীতে জান্তা বাহিনীর এই আকাশপথে আক্রমণ রাখাইনের জনপদকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করছে। এর ফলে হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।
বর্তমানে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের সীমান্ত সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। টেকনাফ ও উখিয়া ব্যাটালিয়নের বিজিবি কমান্ডাররা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি, তবুও সম্ভাব্য মানবিক সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। রাখাইন রাজ্যের এই অস্থিরতা কেবল মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
