Thursday , July 2 2026
Breaking News
ভারত-ইসরায়েল-আফগানিস্তান অক্ষ: পাকিস্তানের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন আতঙ্ক

ভারত-ইসরায়েল-আফগানিস্তান অক্ষ: পাকিস্তানের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন আতঙ্ক

সম্প্রতি আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর বিমান হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। এই হামলায় ৩৬ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তালেবান প্রশাসন পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে, যা পাকিস্তান সরকারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা নিয়ে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। পাকিস্তানের নীতিনির্ধারক মহল ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এই সংকটকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখছেন না, বরং তারা এর পেছনে একটি বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ছক দেখছেন।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফসহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা দাবি করেছেন যে, ভারত, ইসরায়েল এবং আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসনের মধ্যে একটি অশুভ ত্রিপক্ষীয় জোট গড়ে উঠেছে। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, ভারত অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক সহায়তা দিচ্ছে, ইসরায়েল অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে এবং আফগান তালেবান যোদ্ধারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রক্সি যুদ্ধের প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করছে। খাজা আসিফের অভিযোগ, ভারত মানবিক সহায়তার আড়ালে ইসরায়েলি ড্রোন প্রযুক্তি আফগানিস্তানে পাচার করছে, যা পাকিস্তানের সীমান্ত নিরাপত্তাকে প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে ফেলছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. আবদুল্লাহ গুল এবং সাংবাদিক নাজাম সেঠির মতো ব্যক্তিত্বরা মনে করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইসরায়েল সফরের পর থেকেই এই অঞ্চলে কৌশলগত সমীকরণ দ্রুত বদলে গেছে। তাদের মতে, ভারত ও ইসরায়েলের যৌথ গোয়েন্দা সংস্থা—র (RAW) এবং মোসাদ—কাবুলে ভারতীয় দূতাবাসের আড়ালে সক্রিয় রয়েছে। এই জোটের মূল লক্ষ্য হলো পাকিস্তানকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলা এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট করা। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সাথে এই জোটের কর্মকাণ্ডকে যুক্ত করে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, তালেবান এখন মূলত ভারত ও ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষায় প্রক্সি হিসেবে কাজ করছে। উদ্দেশ্য হলো পাকিস্তানকে আফগান সীমান্তে ব্যস্ত রেখে অন্য কোনো বড় অশুভ এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা। যদিও ভারত ও আফগানিস্তান এই ধরনের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে, তবুও পাকিস্তানের থিংক ট্যাংক এবং গণমাধ্যমগুলোতে এই ‘ত্রিপক্ষীয় অক্ষ’ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এই পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও জটিল করে তুলছে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে আস্থার সংকটকে আরও প্রকট করে তুলেছে। ভবিষ্যতে এই উত্তেজনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন।

এছাড়াও

পর্তুগাল বনাম ক্রোয়েশিয়া: শেষ আটের লড়াইয়ে কার দিকে পাল্লা ভারী? যা বলছে অপ্টা সুপারকম্পিউটার

পর্তুগাল বনাম ক্রোয়েশিয়া: শেষ আটের লড়াইয়ে কার দিকে পাল্লা ভারী? যা বলছে অপ্টা সুপারকম্পিউটার

ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং লুকা মদ্রিচ আরও একবার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন এক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *