বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একটি নতুন বাস্তবতায় শুরু হয়েছে নতুন অর্থবছর। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এমন এক সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, যখন দেশের অর্থনীতি নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সংকট এবং ব্যাংকিং খাতে অব্যবস্থাপনা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, নতুন সরকারের প্রথম কাজ হবে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা।
বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহে ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় জনজীবনে অস্বস্তি বেড়েছে। নতুন অর্থবছরকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি রাজস্ব সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের মতো উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ স্বাভাবিক করা এখন সময়ের দাবি।
সাংবাদিক শওকত হোসেনের উপস্থাপনায় ‘প্রাইম ব্যাংক অর্থনীতি-অনর্থনীতি’ অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক এই অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সেখানে উঠে এসেছে যে, কেবল নীতি নির্ধারণ করলেই হবে না, বরং মাঠপর্যায়ে তার সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এখন অপরিহার্য। ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারলে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হবে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
পরিশেষে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি সঠিক দিকনির্দেশনা ও কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে পারে, তবেই দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব। দেশের মানুষ এখন একটি স্থিতিশীল অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের প্রত্যাশায় তাকিয়ে আছে। নতুন অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন এবং অর্থনৈতিক নীতিমালার পুনর্বিন্যাসই হবে বর্তমান সরকারের সাফল্যের প্রধান মানদণ্ড। পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো দ্রুত গ্রহণ করা এখন অত্যন্ত জরুরি।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
