দেশের সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, উপকূলীয় অঞ্চলে নজরদারি বৃদ্ধি এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়নে এক নতুন মাইলফলক স্থাপিত হয়েছে। জাপান সরকারের অফিশিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্সের (ওএসএ) আওতায় পাঁচটি আধুনিক টহল বোট আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই সংযোজন দেশের জলসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সমুদ্রসম্পদ সুরক্ষায় নৌবাহিনীর সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জাপানের প্রতিনিধি দল আনুষ্ঠানিকভাবে বোটগুলো নৌবাহিনীর নিকট হস্তান্তর করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক বিশেষ সহকারী এ কে এম শামছুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় উপমন্ত্রী শিমাদা তোমোয়াকি বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এ সময় নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের অংশ হিসেবে ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে এই পাঁচটি উচ্চগতিসম্পন্ন বোট সংগ্রহের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী, চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি বোটগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছায়। এরপর জাপানি বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে ‘বানৌজা নির্ভীক’ জাহাজে নৌবাহিনীর সদস্যদের বোট পরিচালনার কারিগরি ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
কারিগরি দিক থেকে বোটগুলো অত্যন্ত আধুনিক ও কার্যকর। প্রতিটি বোট ১৬ দশমিক ১৫ মিটার দীর্ঘ, ৩ দশমিক ৫৩ মিটার প্রশস্ত এবং ১৩ দশমিক ৫ টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন। সর্বোচ্চ ৩২ নটিক্যাল মাইল গতিতে ছুটতে সক্ষম এই বোটগুলো কম গভীরতার জলপথেও অনায়াসে চলাচল করতে পারে। ফলে দেশের নদী, মোহনা এবং উপকূলীয় অঞ্চলের দুর্গম ও সংকীর্ণ জলপথে যেকোনো জরুরি অভিযান পরিচালনায় এগুলো অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে দেশের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা সুসংহত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জাপানের কাছ থেকে পাওয়া এই টহল বোটগুলো কেবল নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াবে না, বরং মানবিক সহায়তা প্রদান এবং বঙ্গোপসাগরের নীল অর্থনীতি বা ব্লু-ইকোনমি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। উপকূলীয় টহল জোরদারের ফলে চোরাচালান প্রতিরোধ ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধেও নৌবাহিনী আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক অবস্থান নিতে পারবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
