Friday , July 3 2026
Breaking News

নিরাপত্তা ঝুঁকি উপেক্ষা করে তড়িঘড়ি সফটওয়্যার পরীক্ষা, বোয়িংয়ের সহযোগী প্রতিষ্ঠান উইস্ক অ্যারোর বিরুদ্ধে অভিযোগ

বিশ্বখ্যাত বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের মালিকানাধীন স্বয়ংক্রিয় উড়ন্ত যান তৈরির প্রতিষ্ঠান ‘উইস্ক অ্যারো’ (Wisk Aero) বর্তমানে বড় ধরনের বিতর্কের মুখে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির একজন সাবেক সফটওয়্যার ব্যবস্থাপক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন যে, ২০২৫ সালে নির্ধারিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইট টেস্ট বা পরীক্ষামূলক উড্ডয়নকে সামনে রেখে উইস্ক অ্যারোর কর্তৃপক্ষ সফটওয়্যার পরীক্ষার মানদণ্ড শিথিল করেছে এবং তাড়াহুড়ো করে কাজ সম্পন্ন করার চাপ সৃষ্টি করেছে। এই অভিযোগটি বিমান চলাচল খাতে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগকারী সফটওয়্যার ব্যবস্থাপকের দাবি, প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সফটওয়্যার টেস্টিংয়ের কঠোর প্রোটোকলগুলো পাশ কাটিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিল। তার মতে, যথাযথ নিরাপত্তা যাচাই না করে যদি কোনো স্বয়ংক্রিয় আকাশযান উড্ডয়ন করা হয়, তবে তা আকাশপথে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে, উইস্ক অ্যারো যখন ‘এয়ার ট্যাক্সি’ বা ইলেকট্রিক ভার্টিক্যাল টেক-অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং (eVTOL) প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে, তখন সফটওয়্যারের সূক্ষ্মতম ত্রুটিও ভয়াবহ বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। ওই ব্যবস্থাপক আরও অভিযোগ করেন, তিনি যখন বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন, তখন তাকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, বরং পরবর্তীতে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এভিয়েশন শিল্পের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনাটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিমান শিল্পের একটি বড় সীমাবদ্ধতাকে সামনে এনেছে। অনেক সময় বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার নেশায় কোম্পানিগুলো নিরাপত্তার চেয়ে দ্রুত বাজারজাতকরণ বা সময়সীমা রক্ষা করাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। বোয়িংয়ের মতো একটি জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানের সহযোগী সংস্থা হিসেবে উইস্ক অ্যারোর ওপর জননিরাপত্তার দায়িত্ব অনেক বেশি। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতি এবং মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

উইস্ক অ্যারো আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো বিস্তারিত মন্তব্য না করলেও, তারা জানিয়েছে যে প্রতিটি অভিযোগ তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে এবং নিরাপত্তা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তবে সাবেক কর্মীর এই অভিযোগ প্রমাণ হলে তা কেবল উইস্ক অ্যারোর ভাবমূর্তির ওপরই প্রভাব ফেলবে না, বরং পুরো স্বয়ংক্রিয় বিমান শিল্পে কঠোর নিয়ন্ত্রক নজরদারির দাবি আরও জোরালো হবে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো স্বয়ংক্রিয় আকাশযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে নীতিমালা তৈরি করছে, এই ঘটনাটি সেই প্রক্রিয়ায় নতুন করে বিতর্কের খোরাক জোগাল। ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রযুক্তি কতটা নিরাপদ হবে, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে সাধারণ যাত্রী ও প্রযুক্তিপ্রেমীদের মনে।

এছাড়াও

তরুণ মেধাবীদের বরণ করে নিল বিন: নতুন ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডরদের যাত্রা শুরু

প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের প্রসারে তরুণদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ‘বিন’ (BIN) সম্প্রতি তাদের নতুন ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডরদের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *