বাংলাদেশে ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বিশ্বখ্যাত পেমেন্ট নেটওয়ার্ক ভিসার বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সাব্বির আহমেদের মতে, গত দুই বছরে দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক পালাবদলের মধ্যেও ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্য সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, দেশে কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন প্রতিবছর ২০ শতাংশের বেশি হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও দেশের সামগ্রিক লেনদেনের প্রায় ৭০ শতাংশ এখনো নগদ অর্থ বা ক্যাশ-নির্ভর, তবে ২০৪১ সালের স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যমাত্রায় এই চিত্র উল্টে ফেলার ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে লেনদেনের ৭০ শতাংশ ডিজিটাল এবং ৩০ শতাংশ নগদ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে কিছুটা স্থবিরতা লক্ষ্য করা গেলেও, অভ্যন্তরীণ বাজারে ডিজিটাল পেমেন্টের প্রসার আশাব্যঞ্জক। বিশেষ করে ‘ট্যাপ অ্যান্ড পে’ বা কন্ট্যাক্টলেস পেমেন্ট প্রযুক্তি গ্রাহকদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বর্তমানে প্রতি ১০টি কার্ড পেমেন্টের মধ্যে ৬টিই এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভিসা ‘পাস-কি’ প্রযুক্তির মতো বায়োমেট্রিক অথেনটিকেশন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছে, যা ওটিপি জালিয়াতির মতো ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে। বর্তমানে দেশের ক্রেডিট কার্ড বাজারের প্রায় ৭২ শতাংশ ভিসার দখলে রয়েছে, যা তাদের বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা ও আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ডিজিটাল লেনদেনের গ্রাহকসংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ভিসা। সাব্বির আহমেদ জানান, প্রান্তিক পর্যায়ের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল পেমেন্ট নেটওয়ার্কে নিয়ে আসতে ‘ভিসা একসেপ্ট’-এর মতো সহজ সমাধান নিয়ে কাজ চলছে। এছাড়া গুগল পে-এর সফলতার পর অ্যাপল পে চালুর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে। ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখনো জনসংখ্যার মাত্র ১ শতাংশের কাছাকাছি, যা প্রমাণ করে যে এই খাতে প্রবৃদ্ধির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসগুলোর সাথে সহযোগিতার মাধ্যমে একটি ক্যাশলেস সমাজ গঠনে ভিসা নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
