ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার চালানো এক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। কয়েক মাস ধরে চলা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে একে অন্যতম বড় ও বিধ্বংসী আক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আগেই এই ধরনের ‘ব্যাপক হামলার’ বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নিল। রাজধানী কিয়েভের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ছোড়া রাশিয়ান ক্ষেপণাস্ত্রগুলোতে অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে উদ্ধারকারী দলগুলো জানিয়েছে।
এই হামলার পরপরই ইউক্রেনীয় বাহিনীও পাল্টা আঘাত হেনেছে। রাশিয়ার তেল শোধনাগার এবং জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন, যা মস্কোর জ্বালানি খাতের ওপর চাপের সৃষ্টি করেছে। দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি আক্রমণ যুদ্ধের তীব্রতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এদিকে, ইউক্রেনের আকাশসীমায় রাশিয়ার এই ব্যাপক তৎপরতার মুখে প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ড তাদের যুদ্ধবিমানগুলোকে আকাশপথে টহল দেওয়ার জন্য সতর্ক করেছে। ফিনল্যান্ডও তাদের আকাশসীমার নিরাপত্তা রক্ষায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই হামলা ইউক্রেনের মনোবল ভাঙার একটি কৌশলগত প্রচেষ্টা। তবে ইউক্রেনীয় বাহিনী দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। কিয়েভের বাসিন্দারা বর্তমানে তীব্র আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিশ্বজুড়ে এই সংঘাতের প্রভাব পড়ছে জ্বালানি বাজার ও ভূ-রাজনীতিতে। রাশিয়ার এই আগ্রাসী ভূমিকার নিন্দা জানিয়ে পশ্চিমা শক্তিগুলো ইউক্রেনকে আরও উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। তবে চলমান পরিস্থিতি যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে, কারণ কোনো পক্ষই পিছু হটতে রাজি নয়। জাতিসংঘের পক্ষ থেকেও সাধারণ মানুষের জীবনের সুরক্ষায় উভয় পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
