Thursday , July 2 2026
Breaking News

বরিশালে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ ও সন্তান জন্মদান: আলমগীর সিকদারের মৃত্যুদণ্ড

বরিশালের উজিরপুরে এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে আলমগীর সিকদার (৫২) নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে বরিশাল শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আশরাফ উদ্দিন আসামির উপস্থিতিতে এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া, এই ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানের ভরণপোষণের যাবতীয় দায়িত্ব জেলা প্রশাসনকে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, আসামি আলমগীর সিকদার উজিরপুর উপজেলার পূর্ব কেসবকাঠি গ্রামের বাসিন্দা। ভুক্তভোগী ওই শিশুটি স্থানীয় একটি মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। আসামির বাড়িতে তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। ২০২৩ সালের ৩ মার্চ বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে আলমগীর ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে এবং একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। বর্তমানে ওই শিশুর বয়স তিন বছর।

ঘটনার প্রায় আড়াই মাস পর, ২০২৩ সালের ২১ মে ভুক্তভোগীর বাবা উজিরপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দায়ের হওয়ার পর দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়া শেষে ২০২৪ সালের ৩১ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে আলমগীর সিকদারকে একমাত্র আসামি করে চার্জশিট জমা দেন। বিচারিক প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ শুনানি শেষে ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা পর্যালোচনার পর বিচারক আজ এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন।

এই রায়কে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছে স্থানীয় সচেতন মহল। একই সঙ্গে, ভুক্তভোগী ও তার সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় জেলা প্রশাসনকে ভরণপোষণের দায়িত্ব অর্পণ করায় আদালতের মানবিক দিকটিও প্রশংসিত হয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির যে তাগিদ রয়েছে, এই রায় সেই প্রক্রিয়ারই একটি অংশ বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

এছাড়াও

সিলেটের জকিগঞ্জে ফুটবল খেলা নিয়ে তর্কে চাচাতো ভাইয়ের হাতে ভাই খুন

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে তুচ্ছ বিবাদের জেরে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *