দেশের আকাশপথ ব্যবহার করে স্বর্ণ চোরাচালানের ঘটনা যেন থামছেই না। সর্বশেষ অভিযানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট থেকে প্রায় ১৮ কেজি ৭২০ গ্রাম ওজনের বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ জব্দ করা হয়েছে। দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় আসা বিজি-১৪৮ ফ্লাইটের কার্গো হোল্ডে অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১৬০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিজিএফআই-এর একটি চৌকস দল, এভসেক এবং ঢাকা কাস্টমস হাউসের সমন্বিত অভিযানে এই চালানটি ধরা পড়ে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, স্বর্ণের এই চালানটির বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। তবে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কার্গো হোল্ডের ভেতর স্বর্ণ লুকিয়ে রাখায় এই অভিযানে কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা সম্ভব হয়নি। অপরাধীরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করছে, যা দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, বিমানে কর্মরত কোনো অসাধু চক্র বা চক্রের কোনো সদস্য এর সাথে সরাসরি জড়িত থাকতে পারে।
ঢাকা কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার কামরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধারকৃত স্বর্ণের পরিমাপ ১৮ কেজি ৭২০ গ্রাম। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের প্রতিটি সেক্টরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে, যার অংশ হিসেবে শাহজালাল বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। চলতি বছরের মার্চ মাসেও একই ধরনের একটি ফ্লাইটে প্রায় ১৮ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছিল। একের পর এক এমন ঘটনায় বিমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং তদারকির সীমাবদ্ধতা বারবার সামনে আসছে। চোরাচালানের এই চক্রটি কীভাবে বারবার দেশের প্রধান বিমানবন্দর ব্যবহার করছে, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এই ঘটনার উৎস খুঁজে বের করতে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
