Friday , July 3 2026
Breaking News
ডিজিটাল লেনদেনে নতুন মাশুল: ব্যবসায়ীদের খরচ বাড়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ

ডিজিটাল লেনদেনে নতুন মাশুল: ব্যবসায়ীদের খরচ বাড়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ

বাংলাদেশে ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত ও টেকসই করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি একটি নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নির্দেশনায় ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের (এনপিএসবি) আওতাধীন বাংলা কিউআর (QR) কোডের মাধ্যমে মার্চেন্ট পেমেন্ট গ্রহণের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ১ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) বা লেনদেন ফি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। আগে অনেক ক্ষেত্রে এই মাশুলের হার নির্দিষ্ট ছিল না, যা এখন বাধ্যতামূলকভাবে ভ্যাটসহ ১ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।

নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, যারা এতদিন ১ শতাংশের চেয়ে কম খরচে বা নামমাত্র মাশুলে ডিজিটাল লেনদেন সুবিধা ভোগ করছিলেন, তাদের পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, স্বল্পমেয়াদে এটি ছোট ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল লেনদেনের প্রতি নিরুৎসাহিত করতে পারে। বিশেষ করে যারা খুব কম মার্জিনে পণ্য বিক্রি করেন, তাদের মুনাফায় এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে জারিকৃত পিএসডি পরিপত্র নম্বর–২-এর ধারাবাহিকতায় নতুন এই নির্দেশনা এসেছে। এতে পিওএস (পয়েন্ট অব সেল), ই-কমার্স এবং এনপিএসবি সংক্রান্ত পূর্বের চার্জ ও শর্তসমূহ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে বাংলা কিউআর পেমেন্টের ক্ষেত্রে নতুন এই ন্যূনতম মাশুলের বাধ্যবাধকতা যুক্ত হওয়ায় ব্যাংক, এমএফএস (মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস) এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের (পিএসপি) মাধ্যমে লেনদেন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ডিজিটাল লেনদেনের মানোন্নয়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ ধরে রাখতে প্রজ্ঞাপনে একটি বিশেষ সুযোগও রাখা হয়েছে। কোনো অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠান চাইলে প্রচারণামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মার্চেন্টদের বিশেষ ছাড় দিতে পারবে। তবুও, বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্যমাত্রার সাথে এই নতুন মাশুল কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, তা নিয়ে ব্যবসায়িক মহলে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ডিজিটাল লেনদেনকে জনপ্রিয় করার জন্য যেখানে প্রণোদনা প্রয়োজন, সেখানে নতুন এই মাশুল ব্যবসায়ীদের জন্য অতিরিক্ত চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এছাড়াও

বাংলাদেশের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন করে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে জাইকা

বাংলাদেশের আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং টেকসই অবকাঠামো বিনির্মাণে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা (JICA) তাদের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *