ভেনিজুয়েলার এক ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে হার্নান গিল নামের এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ আট দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে উদ্ধারকর্মীদের সহায়তায় তিনি নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন। হার্নান গিল পেশায় একজন নিরাপত্তা প্রহরী। ঘটনার সময় তিনি একটি বহুতল গাড়ি পার্কিং ভবনের ভেতরে কংক্রিটের তৈরি একটি ছোট কক্ষে দায়িত্বরত ছিলেন। শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে ভবনটি ধসে পড়লে তিনি ধ্বংসস্তূপের ভেতরে আটকা পড়েন। উদ্ধারকারী দলগুলো জানায়, প্রায় ১৯২ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পরও তার বেঁচে থাকা এক অলৌকিক ঘটনার মতো।
উদ্ধার অভিযানের সময় ধ্বংসস্তূপের গভীরে প্রাণের স্পন্দন টের পাওয়ার পর উদ্ধারকর্মীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ শুরু করেন। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয় যাতে ভেতরে থাকা ব্যক্তির কোনো ক্ষতি না হয়। আট দিন ধরে কোনো খাবার বা পানি ছাড়া বেঁচে থাকা হার্নান গিলের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। তাকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে, যেখানে চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। ভেনিজুয়েলার এই বিপর্যয়ে উদ্ধার হওয়া হার্নান গিলের এই বেঁচে ফেরার গল্প এখন পুরো বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাধারণত ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা সময়কে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ বা উদ্ধারকাজের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে হার্নান গিলের ক্ষেত্রে আট দিন পর উদ্ধার হওয়াটা উদ্ধারকারী দলগুলোর অদম্য চেষ্টা এবং ব্যক্তির টিকে থাকার অসীম মানসিক শক্তির পরিচয় দেয়। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ধসে পড়া ভবনের কাঠামোর ভেতরে একটি ছোট পকেট বা ফাঁকা জায়গা তৈরি হওয়ায় তিনি সরাসরি পাথরের চাপে পিষ্ট হওয়া থেকে বেঁচে গেছেন। বর্তমানে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা তার শারীরিক উন্নতির জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই ঘটনাটি দুর্যোগ পরবর্তী উদ্ধারকাজে নিয়োজিত কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধিতে বড় অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
