Thursday , July 2 2026
Breaking News
কুমিল্লা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতি: ঝরে পড়ার পেছনে অর্থনৈতিক সংকট

কুমিল্লা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতি: ঝরে পড়ার পেছনে অর্থনৈতিক সংকট

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যায় বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য মোট ১ লাখ ২২ হাজার শিক্ষার্থী নিবন্ধন করলেও চূড়ান্তভাবে ফরম পূরণ করেছেন মাত্র ৯৫ হাজার ৮৯ জন। এর ফলে প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন অথবা স্বেচ্ছায় ঝরে পড়েছেন। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতিকে শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন।

শিক্ষার্থীদের এই ঝরে পড়ার কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আহসান পারভেজ জানিয়েছেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে। অনেক শিক্ষার্থীই পরিবারের আর্থিক অনটন মেটাতে পড়াশোনা ছেড়ে উপার্জনের পথে পা বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক প্রতিকূলতাও এর অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া এই পরীক্ষায় বাংলা প্রথম পত্রের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ শুরু করেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৯৫ হাজার ৮৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫৭ হাজার ৩২৪ জন ছাত্রী এবং ৩৭ হাজার ৭৬৫ জন ছাত্র। অর্থাৎ ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা প্রায় ২০ হাজার বেশি সংখ্যায় পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর—এই ছয় জেলার ৪৬৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ১৯৩টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী কুমিল্লা জেলায় (৩৩ হাজার ৬১২ জন) এবং সবচেয়ে কম ফেনী জেলায় (৮ হাজার ৬৪৯ জন)।

পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত রাখতে শিক্ষা বোর্ড কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রতিটি কেন্দ্রের চারপাশে ১৪৪ ধারা জারির জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে বোর্ড থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়া বা লোডশেডিংয়ের কথা মাথায় রেখে প্রতিটি কেন্দ্রে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও আলোর পর্যাপ্ত জোগান রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর আহসান পারভেজ আরও বলেন, একটি অনিয়মমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ পরীক্ষা সম্পন্ন করা বোর্ডের মূল লক্ষ্য। পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং ভিজিল্যান্স টিমকে কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অনিয়ম বা অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। শিক্ষা বোর্ডের এই কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।

এছাড়াও

সরকারি নিয়োগ ও পরীক্ষা কার্যক্রমে সম্মানীর হার পুনর্নির্ধারণ: অর্থ বিভাগের নতুন পরিপত্র

সরকারি নিয়োগ ও পরীক্ষা কার্যক্রমে সম্মানীর হার পুনর্নির্ধারণ: অর্থ বিভাগের নতুন পরিপত্র

দেশের সরকারি মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও দপ্তরের নিয়োগ এবং পদোন্নতি-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনাকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মানী ও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *