Tuesday , June 30 2026
Breaking News
মার্টিনেল্লির শেষ মুহূর্তের জাদুতে স্বপ্নের ঘোরে ব্রাজিল, শেষ ষোলোতে সেলেসাওরা

মার্টিনেল্লির শেষ মুহূর্তের জাদুতে স্বপ্নের ঘোরে ব্রাজিল, শেষ ষোলোতে সেলেসাওরা

ব্রাজিল তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল, শেষ ষোলোতে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করে। এই গুরুত্বপূর্ণ বিজয়ের মূল কারিগর ছিলেন তরুণ ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি, যার শেষ মুহূর্তের গোলে জাপানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে সেলেসাওরা। যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি ছিল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পৌঁছানোর পথে ব্রাজিলের জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা, যেখানে মার্টিনেল্লির অসাধারণ পারফরম্যান্স দলকে কাঙ্ক্ষিত জয় এনে দিয়েছে।

ম্যাচ শেষে মার্টিনেল্লি ছিলেন আবেগাপ্লুত। জাতীয় দলের সাফল্যে অবদান রাখতে পেরে তিনি যেন ভাষা হারিয়ে ফেলেছিলেন। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আর্সেনালের এই তারকা বলেন, “ব্রাজিলের মানুষের যোগ্যতা অর্জনের আনন্দে উচ্ছ্বসিত দেখতে পেয়ে আমার হৃদয়ের আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমার পরিবার, আমার স্ত্রী, বাবা-মা, বন্ধুদের মুখে হাসি দেখে আমি কী অনুভব করছি, তা ব্যাখ্যা করতে পারছি না। এখনও যেন বিশ্বাসই হচ্ছে না। হয়তো কিছু সময় পর বিষয়টা পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারব।” তার এই উক্তি থেকে দেশের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা এবং এই বিজয়ের ব্যক্তিগত গুরুত্ব স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়।

মার্টিনেল্লি আরও জানান, ম্যাচের কয়েকদিন আগে পরিবারের সঙ্গে তার কথোপকথনের কথা। তিনি তাদের বলেছিলেন যে, আগের ম্যাচে পোস্টে বল লেগে গোল হয়নি, কিন্তু তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে আরেকটি সুযোগ পাবেন। ঈশ্বরের কৃপায় তিনি সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করতে পেরেছেন। তিনি দলের পারফরম্যান্সেও সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, “দলের জন্য আমি খুবই খুশি। সবাই নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়েছে। আমি সত্যিই ভাষাহীন।” এই গোলটি কেবল তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।

দ্বিতীয়ার্ধের ২১ মিনিটে মাতেউস কুনহার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মার্টিনেল্লি। মাঠে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই জাপানের ডিফেন্ডারদের সঙ্গে পেনাল্টি বক্সে বলের লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন তিনি। সেই সময় মায়েদার আঘাতে তার মুখে চোট লাগে, যার দাগ ম্যাচ শেষেও স্পষ্ট দেখা যায়। মার্টিনেল্লি পেনাল্টির দাবি জানালেও রেফারি খেলা চালিয়ে যেতে বলেন। এই ঘটনা সত্ত্বেও তিনি নিজের মনোযোগ হারাননি। এদিন তিনি তার পরিচিত উইঙ্গারের ভূমিকায় নয়, বরং মাঝমাঠে খেলেন। কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাকে এই নতুন ভূমিকায় খেলার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। মার্টিনেল্লি জানান, “অবশ্যই, আমি এই পজিশনে খুব বেশি খেলি না। তবে কোচ আমার সঙ্গে কথা বলেছেন, কীভাবে মাঝমাঠের কেন্দ্রীয় ভূমিকায় খেলতে পারি। সেটা উইং হোক বা মাঝখান—যেখানেই খেলি না কেন, আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব ব্রাজিলকে সাহায্য করার।” তার এই বহুমুখীতা দলের জন্য একটি বড় সম্পদ।

এই জয় ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্বপ্নকে আরও উজ্জ্বল করেছে। এখন তারা শেষ ষোলোর পরবর্তী ধাপের জন্য অপেক্ষা করছে। তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ হবে নরওয়ে ও আইভরি কোস্টের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দল। আগামী রবিবার সেই গুরুত্বপূর্ণ লড়াই অনুষ্ঠিত হবে। মার্টিনেল্লির মতো তরুণ প্রতিভার উত্থান এবং দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ব্রাজিলের সমর্থকদের মনে নতুন আশা জাগিয়েছে।

এছাড়াও

বিশ্বকাপের নকআউটে জাপানের চমক: পিছিয়ে থেকে বিরতিতে গেল ব্রাজিল

বিশ্বকাপের নকআউটে জাপানের চমক: পিছিয়ে থেকে বিরতিতে গেল ব্রাজিল

হিউস্টনে ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের এক উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে অপ্রত্যাশিতভাবে জাপানের কাছে পিছিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *