মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি এক যুগান্তকারী রায়ে মেইল-ইন ব্যালটের জন্য ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বা অতিরিক্ত সময়সীমা বহাল রেখেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে পোস্টমার্ক করা ব্যালটগুলো নির্বাচন দিবসের পরেও গ্রহণ করার যে নিয়ম কিছু রাজ্যে প্রচলিত আছে, তা বৈধতা পেল। এই রায় বিশেষ করে মিসিসিপি রাজ্যের একটি আইনকে কেন্দ্র করে রিপাবলিকান পার্টির করা চ্যালেঞ্জ খারিজ করে দিয়েছে, যা দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এক তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মেইল-ইন ব্যালট হলো এমন এক পদ্ধতি যেখানে ভোটাররা ডাকযোগে তাদের ভোটপত্র জমা দেন। কোভিড-১৯ মহামারীর সময় এই পদ্ধতির ব্যবহার ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছিল, কারণ এটি সরাসরি ভোটকেন্দ্রে না গিয়েও ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দেয়। তবে, কিছু রাজনৈতিক মহল, বিশেষ করে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার রিপাবলিকান সমর্থকরা মেইল-ইন ব্যালট পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, যেখানে তারা ভোট কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ ছিল যে দেরিতে আসা ব্যালট গ্রহণ করলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ব্যাহত হতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়টি ‘ওয়াটসন বনাম আরএনসি’ (Watson v. RNC) নামক একটি মামলাকে কেন্দ্র করে এসেছে। এই মামলায় রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি (RNC) মিসিসিপি রাজ্যের একটি আইনকে চ্যালেঞ্জ করেছিল, যা নির্বাচন দিবসের পরে পৌঁছানো মেইল-ইন ব্যালটগুলো গ্রহণ করার অনুমতি দেয়, যদি সেগুলো নির্বাচন দিবসের আগে পোস্টমার্ক করা থাকে। রিপাবলিকানরা যুক্তি দিয়েছিল যে এই ধরনের গ্রেস পিরিয়ড নির্বাচনী জালিয়াতির ঝুঁকি বাড়ায় এবং নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে, নিম্ন আদালত এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছিল, এবং সুপ্রিম কোর্ট সেই সিদ্ধান্তই বহাল রেখেছে।
এই রায়কে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার মিত্রদের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে মেইল-ইন ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদানের বিরোধিতা করে আসছেন এবং এটিকে “কারচুপির সুযোগ” বলে আখ্যায়িত করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত মূলত ভোটারদের অংশগ্রহণের অধিকারকে সুরক্ষিত করেছে এবং রাজ্যগুলোকে তাদের নিজস্ব নির্বাচনী আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে আরও স্বাধীনতা দিয়েছে। এটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, দেরিতে আসা ব্যালট বাতিল করার রিপাবলিকানদের প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
এই রায়ের ফলে বিশেষ করে সামরিক বাহিনীর সদস্য, বিদেশে অবস্থানরত নাগরিক এবং জরুরি পরিস্থিতিতে থাকা ভোটারদের জন্য সুবিধা হবে, যারা সময়মতো ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেন না বা তাদের ব্যালট ডাকযোগে সময়মতো নাও পৌঁছাতে পারে। এটি নিশ্চিত করবে যে, বৈধভাবে পোস্টমার্ক করা কোনো ব্যালট শুধুমাত্র দেরিতে পৌঁছানোর কারণে বাতিল হবে না। ভবিষ্যতে ফেডারেল নির্বাচনগুলোতেও এর একটি সুদূরপ্রসারী প্রভাব থাকতে পারে, কারণ এটি মেইল-ইন ব্যালটের গ্রহণযোগ্যতা এবং বৈধতা আরও জোরালো করবে।
সর্বোচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং ভোটারদের আস্থা বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি একদিকে যেমন ভোটারদের অধিকারকে সুরক্ষিত করেছে, তেমনি অন্যদিকে নির্বাচনী কারচুপির ভিত্তিহীন অভিযোগগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এই রায় প্রমাণ করে যে, আমেরিকার বিচার বিভাগ নির্বাচনী আইনের ব্যাখ্যা এবং প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর, যা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
