Tuesday , June 30 2026
Breaking News
ময়মনসিংহে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার: হত্যা না দুর্ঘটনা, রহস্য ঘনীভূত

ময়মনসিংহে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার: হত্যা না দুর্ঘটনা, রহস্য ঘনীভূত

ময়মনসিংহ নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বয়রা ফকির বাড়ি এলাকায় আট দিন ধরে নিখোঁজ থাকা ছয় বছর বয়সী শিশু সাউমী সাবার মরদেহ একটি ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) সন্ধ্যায় বয়রা সমাধানের মোড় সংলগ্ন একটি ডোবার কালভার্টের নিচ থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে, একই সাথে শিশুর মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে গভীর রহস্য। পরিবার এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করলেও, পুলিশ প্রাথমিকভাবে এটিকে পানিতে ডুবে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বলে ধারণা করছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

নিহত সাউমী সাবা ছিলেন বয়রা ছালাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী এবং ওই এলাকার স্বপন ফকিরের মেয়ে। গত ২১ জুন, রবিবার দুপুর ২টার দিকে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পর সাউমী তার দুই প্রতিবেশী শিশুর সঙ্গে বৃষ্টিতে ভিজতে খেলতে বের হয়। কিছুক্ষণ পর অন্য দুই শিশু নিরাপদে বাড়ি ফিরলেও সাউমীর আর খোঁজ মেলেনি। এরপর থেকেই শুরু হয় পরিবারের সদস্যদের অক্লান্ত অনুসন্ধান। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও যখন সাউমীর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি, তখন সেদিন রাতেই দিশেহারা বাবা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। আটটি দীর্ঘ দিন ধরে পরিবারের সদস্যরা এক বুক আশা নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন, কিন্তু অবশেষে তাদের সেই আশা পরিণত হলো গভীর বিষাদে।

দীর্ঘ আট দিন পর সোমবার বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয় এক ব্যক্তি ডোবার কালভার্টের নিচে বরশি দিয়ে মাছ ধরার সময় একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখেন। দ্রুত এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে নিখোঁজ সাউমীর পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে তারা নিখোঁজ হওয়ার সময় সাউমীর পরা জিন্স প্যান্ট দেখে তার মরদেহ শনাক্ত করেন। এই দৃশ্য দেখে পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে বয়রা এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। পরে খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

সাউমীর মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে দুই ধরনের বক্তব্য উঠে আসছে। নিহত শিশুর মামা বেলায়েত হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “আমার ভাগ্নি নিখোঁজ হওয়ার পর আমরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি, কিন্তু কোথাও পাইনি। আজ যখন মরদেহ উদ্ধার করা হলো, তখন তার পিঠে নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন দেখা গেছে। আমরা নিশ্চিত, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়েছে।” পরিবারের দাবি, সাউমীকে অপহরণ করে নির্যাতন করা হয়েছে এবং পরে হত্যা করে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে, যা তাদের মনে গভীর সন্দেহ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

অন্যদিকে, কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম জাগো নিউজকে জানান, “আমরা মরদেহ উদ্ধার করেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৃষ্টিতে ভিজতে গিয়ে পানিতে ডুবে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং আমরা সব দিক খতিয়ে দেখছি।” পুলিশ কোনো রকম সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ওপরই নির্ভর করতে চাইছে।

এই ঘটনাটি এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একটি ছয় বছরের শিশু কীভাবে আট দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর একটি ডোবা থেকে উদ্ধার হলো, এবং তার মৃত্যু কি আসলেই নিছক দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে কোনো জঘন্য অপরাধ লুকিয়ে আছে, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনই এই রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশ মামলার তদন্তে নেমেছে এবং আশা করা হচ্ছে দ্রুতই এই ঘটনার পেছনের সত্য উন্মোচিত হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

এছাড়াও

মুঠোফোনের অ্যালার্মই ধরিয়ে দিল খুনিকে: গাজীপুরে চার খুনের নেপথ্যে ভয়ংকর এক রাত

মুঠোফোনের অ্যালার্মই ধরিয়ে দিল খুনিকে: গাজীপুরে চার খুনের নেপথ্যে ভয়ংকর এক রাত

২০২০ সালের ২৪ এপ্রিল। গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি ভাড়া বাসায় ইন্দোনেশীয় নারী ও তাঁর তিন সন্তানের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *