২০২০ সালের ২৪ এপ্রিল। গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি ভাড়া বাসায় ইন্দোনেশীয় নারী ও তাঁর তিন সন্তানের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো দেশ স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল। নিহতদের মধ্যে ছিল দুই কিশোরী কন্যা ও এক বাক্প্রতিবন্ধী ছেলে। ঘটনার দিন সকালে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। কিন্তু শুরুতে খুনি শনাক্ত করতে হিমশিম খেতে হয় তদন্তকারীদের। কোনো ক্লু না থাকায় ডাকাতির ছক মাথায় নিয়েই এগোতে থাকেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কর্মকর্তারা।
তদন্তের এক পর্যায়ে পিবিআইয়ের সন্দেহের তালিকায় উঠে আসে প্রতিবেশী পারভেজ মিয়া। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদের সময় পারভেজ নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা বারবার অস্বীকার করছিলেন। পিবিআই কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন গভীর রাত পর্যন্ত পারভেজের বাড়িতে চলে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ। ফজর নামাজের সময় হঠাৎ তদন্তকারীদের কানে আজানের ধ্বনি ভেসে আসে। সাধারণত মসজিদ থেকে আজানের শব্দ আসার কথা থাকলেও, শব্দের উৎস খুঁজতে গিয়ে পাওয়া যায় এক চাঞ্চল্যকর ক্লু। পারভেজের ঘরের মেঝেতে মাটির নিচে লুকানো একটি মুঠোফোন থেকে সেই আজানের ধ্বনি বা অ্যালার্ম বাজছিল। আর সেই মুঠোফোনটি ছিল নিহত ইন্দোনেশীয় নারীর। এই একটি অ্যালার্মই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং খুনিকে জালে আটকে ফেলে।
তদন্তে বেরিয়ে আসে, পারভেজ ওই রাতে চুরির উদ্দেশ্যে ভেন্টিলেটর দিয়ে ভুক্তভোগীর বাসায় ঢুকেছিল। কিন্তু গৃহকর্ত্রী তাকে চিনে ফেলায় ধরা পড়ার ভয়ে সে বটি দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা সে ওই বাড়িতে অবস্থান করে এবং নৃশংসতার চরম পর্যায়ে এক ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করে। পিবিআই পরবর্তীতে ফরেনসিক রিপোর্ট, ডিএনএ নমুনা, পায়ের ছাপ এবং পারভেজের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, অপরাধী যত সতর্কই হোক না কেন, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে আইনের হাত থেকে পালানোর কোনো পথ নেই।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
