মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়াতি প্রতিবেশী দেশ বাহরাইনকে উদ্দেশ্য করে এক কড়া সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বাহরাইন যদি উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত না থাকে, তবে তেহরান তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে। তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেলায়াতি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বাহরাইনের উচিত নিজেদের সীমানার সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং ইরানকে কোনো চরম সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত না করা।
এই সতর্কবার্তার নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ের সামরিক অস্থিরতা। গত শুক্র ও শনিবার বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটিতে ইরান হামলা চালায়। তেহরানের দাবি, তাদের ভূখণ্ডে যেকোনো ধরনের বিদেশি আগ্রাসনের ক্ষেত্রে বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে। ইরান মনে করে, ওয়াশিংটন এই দেশগুলোর ভূখণ্ডকে ব্যবহার করে ইরানের সার্বভৌমত্ব খর্ব করছে। তবে বাহরাইনসহ উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং হামলার নিন্দা জানিয়ে একে তাদের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে।
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের ভূখণ্ডে সাম্প্রতিক মার্কিন আক্রমণের বদলা নিতেই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এটি মূলত একটি বার্তা যে, ভবিষ্যতে যেকোনো আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েল-মার্কিন জোটের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে পুরো অঞ্চল এক ভয়াবহ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। যদিও যুদ্ধবিরতি ও স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং ৬০ দিনের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, তবুও এই নতুন উত্তজনা শান্তি প্রক্রিয়ার ওপর বড় ধরনের হুমকি তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকটি বর্তমানে ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে। বাহরাইনের মতো ছোট দেশগুলোর ভূখণ্ডকে কেন্দ্র করে এই বৃহৎ শক্তির লড়াই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো বড় ধরনের সংঘাতের সূচনা করবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধান না এলে এই উত্তেজনা পুরো অঞ্চলকে এক অনিশ্চিত পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে পারে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
