ঢাকার ধামরাইয়ে বহুল আলোচিত মা ও দুই সন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রাথমিক অবস্থায় ঘটনাটিকে বিষাক্ত খাবার গ্রহণের কারণে সৃষ্ট দুর্ঘটনা মনে করা হলেও, পরবর্তীতে পিবিআইয়ের নিখুঁত অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে এটি ছিল এক পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ডেকোরেটরের ব্যবসা বিক্রি করে দেওয়ার ক্ষোভ থেকে পরিবারেরই আপন জামাতা সম্পূর্ণ ঠান্ডা মাথায় এই ত্রিপল মার্ডার সংঘটিত করে। দীর্ঘ তদন্ত ও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে ধামরাইয়ের একটি বসতবাড়ি থেকে নারগিস বেগম ও তাঁর দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার প্রারম্ভিক পর্যায়ে নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা ছিল, বিষক্রিয়া বা খাবারে বিষাক্ত কিছু মেশানোর কারণে তাঁদের অকাল মৃত্যু হয়েছে। তবে মরদেহ উদ্ধারের ধরণ এবং পারিপার্শ্বিক আলামত পর্যবেক্ষণ করে ঘটনার আকস্মিকতায় গভীর খটকা লাগে মামলার মূল তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের মনজুর রহমানের। তিনি প্রাথমিক ধারণাকে চূড়ান্ত না ধরে নিরপেক্ষ ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তার সূক্ষ্ম নজরদারি ও গভীর অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে সন্দেহের তীর যায় নিহতের জামাতা ২২ বছর বয়সী রবিনের দিকে। আটক করে রবিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে একে একে বেরিয়ে আসতে থাকে সত্য। পরবর্তীতে অভিযুক্ত রবিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। জবানবন্দিতে তিনি জানান, তাঁর শাশুড়ি নারগিস বেগম পারিবারিক মালিকানাধীন ডেকোরেটরের ব্যবসাটি বিক্রি করে দেন, যা রবিন মেনে নিতে পারেননি। ব্যবসা বিক্রির ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাশুড়ির প্রতি তাঁর তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
প্রতিশোধের বশবর্তী হয়ে রাতে যখন সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন, তখন রবিন ঘুমন্ত শাশুড়ি নারগিস বেগম এবং তাঁর দুই শ্যালককে এক এক করে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। অপরাধ ঢাকার উদ্দেশ্যে পুরো ঘটনাটিকে খাদ্য বিষক্রিয়া বা সাধারণ দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তার বিচক্ষণতায় ঘাতকের সেই কৌশল নস্যাৎ হয়ে যায়। গত ১৪ জানুয়ারি তদন্তকারী কর্মকর্তা মনজুর রহমান আদালতে এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ অভিযোগপত্র দাখিল করেন, যার মাধ্যমে আসামির বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
