Saturday , July 25 2026
Breaking News
ফেনী সীমান্তে বিএসএফের পুশ ইন চেষ্টা ব্যর্থ: বিজিবির কঠোর প্রতিরোধ

ফেনী সীমান্তে বিএসএফের পুশ ইন চেষ্টা ব্যর্থ: বিজিবির কঠোর প্রতিরোধ

ফেনীর পরশুরাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক সাতজন নারী ও শিশুকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) একটি প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত শনিবার সকালে সংঘটিত এই ঘটনায় বিজিবি’র দৃঢ় প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ তাদের নিয়ে আসা নাগরিকদের পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়, যা সীমান্ত সুরক্ষায় বাংলাদেশের জিরো টলারেন্স নীতির আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোর পৌনে পাঁচটার দিকে ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের পশ্চিম সাহেবনগর-দুর্গাপুর গ্রামের সীমান্ত এলাকায় এই অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানো হয়। বিএসএফের সদস্যরা সাতজন বাংলাভাষী ভারতীয় নাগরিককে শূন্যরেখা অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা তৎক্ষণাৎ বাধা দেন। দীর্ঘক্ষণ ধরে সীমান্ত রেখার উভয় পাশে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করে। অবশেষে সকাল দশটা নাগাদ বিএসএফ তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে ব্যর্থ হয়ে ওই নারী ও শিশুদের সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ভারতের ভেতরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বিজিবি ৪ ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান। তিনি জানান, বিজিবি ৪ ফেনী ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে বিএসএফের এই অযাচিত কর্মকাণ্ডের কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে কোনো ধরনের অবৈধ পুশ ইন প্রচেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না। সীমান্ত এলাকায় যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং নিজেদের দায়িত্ব পালনে বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না।

সাধারণত, অর্থনৈতিক দুর্দশা, কাজের সন্ধানে বা কখনো ভুয়া কাগজপত্রের কারণে কিছু ভারতীয় নাগরিক সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করে থাকে। অনেক সময় মানবপাচারকারীরাও সক্রিয় থাকে এই ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশে। তবে, বিএসএফের পক্ষ থেকে এভাবে জোরপূর্বক নাগরিক ঠেলে পাঠানোর ঘটনা আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন ও প্রথার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বাংলাদেশ সরকার এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনী দীর্ঘদিন ধরেই এই ধরনের কার্যকলাপের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে এবং তা কঠোরভাবে দমন করছে।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান থাকলেও, সীমান্তের এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে নিয়মিত সীমান্ত সম্মেলন এবং পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও, মাঝেমধ্যে এমন ঘটনা দু’দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বরাবরই শান্তিপূর্ণ সীমান্ত বজায় রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ ইন ঠেকানোর জন্য কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হয়।

ফেনী সীমান্ত বাংলাদেশের একটি সংবেদনশীল এলাকা, যেখানে নিয়মিত অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা দেখা যায়। তবে, বিজিবির নিরলস প্রচেষ্টা ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এই ধরনের প্রচেষ্টা সফল হতে দেওয়া হয় না। এবারের ঘটনাও বাংলাদেশের সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির সক্ষমতা ও প্রতিশ্রুতির পরিচায়ক। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এই দৃঢ় অবস্থান দেশের সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সীমান্ত রক্ষা এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যরা প্রতিনিয়ত জীবন বাজি রেখে কাজ করে যাচ্ছেন।

এছাড়াও

প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, ন্যায়বিচারের নতুন সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর সরকার: মাহদী আমিন

প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, ন্যায়বিচারের নতুন সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর সরকার: মাহদী আমিন

রাজধানীর এক উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনা সভায় সরকারের মূলনীতি ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে, অতীত ইতিহাসের প্রতিশোধমূলক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *