নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ইসমাইল হোসেনকে ৫০ পিস ইয়াবাসহ আটক করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। গত শুক্রবার রাতে উপজেলার তুলাতুলি মোড় এলাকা থেকে তাঁকে মাদকদ্রব্যসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই চিকিৎসক শুধু নিজে মাদক সেবনই করতেন না, বরং এর কারবারেও জড়িত ছিলেন। তাঁর এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে হাসপাতাল চত্বর, পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই ওয়াকিবহাল ছিলেন।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রায়পুরা থানা পুলিশের কাছে গোপন সংবাদ আসে যে কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলা থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় মাদকের একটি চালান রায়পুরার দিকে আসছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের একটি বিশেষ দল তুলাতুলি মোড়ে অবস্থান নেয় এবং সন্দেহভাজন যানবাহনগুলোতে তল্লাশি চালাতে শুরু করে। তল্লাশির একপর্যায়ে একটি অটোরিকশার একমাত্র যাত্রী ইসমাইল হোসেনকে থামানো হয় এবং তাঁর দেহ তল্লাশি করে ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, আটকের প্রাথমিক মুহূর্তে ইসমাইল হোসেন নিজের পেশাগত পরিচয় গোপন রাখার চেষ্টা করেন এবং নানা উপায়ে পুলিশকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালান। পরবর্তীতে তাঁকে থানায় নিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় তিনি জানান যে তিনি একজন চিকিৎসক এবং ওই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই কর্মরত আছেন। তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। খবর পেয়ে তাঁর স্ত্রী ও সহকর্মীরাও থানায় ছুটে আসেন।
পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্যে চিকিৎসকের স্ত্রী জানিয়েছেন যে মাদকের ভয়াবহ নেশার কারণে তাঁদের পারিবারিক জীবনে দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক অশান্তি বিরাজ করছিল। বহুবার তাঁকে মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্রে (রিহ্যাব) পাঠানোর চেষ্টা করা হলেও তাঁর তীব্র অনীহার কারণে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। এই ঘটনায় রায়পুরা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁকে নরসিংদী আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের মতো একটি সংবেদনশীল সেক্টরে দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
