ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজতেই বিগত ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আলাস্কায় এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। ওই ঐতিহাসিক শীর্ষ সম্মেলনে উভয় দেশের শীর্ষ নেতাদের মাঝে একটি সমঝোতা প্রস্তাব তৈরি হয়েছিল, যা নিয়ে পরবর্তীতে ব্যাপক আশাবাদের সৃষ্টি হয়। বৈঠক শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে, বিরোধপূর্ণ প্রায় প্রতিটি বিষয়েরই সন্তোষজনক সমাধান মিলেছে এবং দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি শক্ত ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন যে, আলাস্কা বৈঠকে যে সমস্ত প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছিল, তা পুরোপুরি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। রুশ বার্তা সংস্থা তাস-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কো রুবিওর এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই ল্যাভরভ। তিনি এক জোরালো পাল্টা বিবৃতিতে বলেছেন যে, মার্কো রুবিওর সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে ইউক্রেন সংকট নিরসনে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন বা বিচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। ল্যাভরভ অত্যন্ত কড়া ভাষায় মন্তব্য করেছেন যে, আলাস্কা চুক্তি ব্যর্থ হয়েছে বলে রায় দেওয়ার পূর্বে মার্কিন নীতিনির্ধারকদের অবশ্যই আত্মমূল্যায়ন করা উচিত এবং দেখা উচিত যে কার বা কাদের ব্যর্থতার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ক্রেমলিনের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, রাশিয়ার নীতি সর্বদা স্পষ্ট—যা বলা হয়, তা নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করা হয়।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও দাবি করেন যে, আলাস্কা সম্মেলনে যে সমঝোতা প্রস্তাবগুলো টেবিলে আনা হয়েছিল, সেগুলোকে ওয়াশিংটন বা কিয়েভ কর্তৃপক্ষ অবমূল্যায়ন করেছে কিংবা চুক্তিভঙ্গ করেছে। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, ইউক্রেনকে অবিরত মার্কিন সামরিক সহায়তা প্রদানের ফলে কিয়েভ সরকার শান্তি আলোচনার চেয়ে সামরিক পন্থায় অনড় রয়েছে। জেলেনস্কি প্রশাসনের কাছে প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ ড্রোন, অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র, উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং স্টারলিংক স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা সরবরাহ করা হচ্ছে। কিয়েভ এই সমস্ত সামরিক সুবিধা ব্যবহার করে ইউক্রেনের বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামো এবং সাধারণ মানুষের ওপর আক্রমণ পরিচালনা করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে সমগ্র অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে ফেলছে।
ল্যাভরভ জানান, আলাস্কা চুক্তির সময় যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ইউক্রেনীয় নেতৃত্ব সংকট নিরসনে গঠনমূলক পদক্ষেপ নেবে, কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। ওই আপস প্রস্তাবগুলো যদি সফলভাবে বাস্তবায়িত হতো, তবে এতক্ষণে ইউক্রেন যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে পারত এবং রাজনৈতিক সংলাপের দুয়ার উন্মুক্ত হতো। মস্কো এখনও এই সংকটের একটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান বজায় রেখেছে বলে জানান তিনি। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় মিত্ররা যদি আলাস্কা চুক্তিকে পুরোপুরি পাশ কাটিয়ে চলতে চায়, তবুও রাশিয়া তার নির্ধারিত কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে কোনোভাবেই পিছপা হবে না। ২০২৪ সালের জুনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ সংক্রান্ত যে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও রূপরেখা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন, যেকোনো মূল্যে তা বাস্তবায়ন করা হবে বলে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
