বিশিষ্ট পদার্থবিজ্ঞানী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস ডার্টমাউথের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতাউল করিমের বহুল প্রতীক্ষিত গ্রন্থ ‘যে শুরুর শেষ নেই’-এর প্রকাশনা উৎসব সম্প্রতি সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানীর কাকরাইলস্থ ওয়াইএমসিএ ভবনে এক মনোজ্ঞ আয়োজনে এই বইয়ের আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করা হয়, যেখানে দেশের প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন এই গ্রন্থটি অধ্যাপক আতাউল করিমের গভীর চিন্তাভাবনা এবং বিস্তৃত অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। অনুষ্ঠানের অন্যতম আলোচক, শিক্ষাবিদ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিস্টিংগুইশড অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ বইটি প্রসঙ্গে তার মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘যে শুরুর শেষ নেই’ একটি অসাধারণ রচনা, যা পাঠকদের চিন্তার নতুন দুয়ার খুলে দেবে। কায়কোবাদ আরও মন্তব্য করেন যে, বইয়ের প্রবন্ধগুলো পাঠ করতে গিয়ে সহজেই অনুমেয় যে, একজন তরুণ বয়সেই কত বড় ও মহৎ চিন্তা করা সম্ভব। এই মন্তব্য বইটির দার্শনিক গভীরতা এবং অনুপ্রেরণামূলক দিকটিকেই সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
প্রকাশনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের (বিএমআরসি) সম্মানিত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তার। তিনি তার বক্তব্যে ড. আতাউল করিমের অ্যাকাডেমিক ও গবেষণামূলক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বিজ্ঞান চর্চায় তার অবদানকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাহিত্যিক এবং বুদ্ধিজীবীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ড. করিমের কর্মজীবনের পাশাপাশি তার লেখনী দক্ষতার প্রশংসা করেন, যা বিজ্ঞান ও সাহিত্যের এক বিরল মেলবন্ধন ঘটিয়েছে। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই বইটি বাংলা সাহিত্যে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠবে।
১৯৫৩ সালে মৌলভীবাজার জেলায় জন্মগ্রহণকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতাউল করিম বৈশ্বিক বিজ্ঞান অঙ্গনে এক সুপরিচিত নাম। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস ডার্টমাউথের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি শুধু শিক্ষাদান ও গবেষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং নেতৃত্বস্থানীয় বিভিন্ন পদেও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট, এক্সিকিউটিভ ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক) এবং চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) এর মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো সফলভাবে অলংকৃত করেছেন, যা একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানীর জন্য নিঃসন্দেহে এক বিরল সম্মান ও কৃতিত্বের পরিচায়ক। তার গবেষণা মূলত অপটিক্স, ফোটোনিক্স এবং অপটিক্যাল কম্পিউটিংয়ের মতো আধুনিক ক্ষেত্রগুলিতে বিস্তৃত, যা আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।
অধ্যাপক আতাউল করিমের পারিবারিক পরিচয়ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অনুপ্রেরণাদায়ক। তার বাবা ছিলেন ডা. মুহাম্মদ আবদুশ শুকুর, যিনি বাংলাদেশে ধূমপানবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে আজও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণীয়। তার মা আনোয়ারা নূরী শুকুরও ছিলেন এক মহীয়সী নারী, যিনি তার সন্তানদের মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এমন একটি প্রগতিশীল ও জনহিতৈষী পরিবারে বেড়ে ওঠায় অধ্যাপক করিমের চিন্তা ও দর্শনে সেই প্রভাব সুস্পষ্ট। তার নতুন বই ‘যে শুরুর শেষ নেই’ কেবল ব্যক্তিগত উপলব্ধির সংগ্রহ নয়, বরং এটি নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞান, দর্শন এবং জীবনের গভীরতম অর্থ অনুসন্ধানে অনুপ্রাণিত করার একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রবাসে থেকেও নিজ দেশের প্রতি তার টান এবং বাংলায় সাহিত্যচর্চা নিঃসন্দেহে অনুকরণীয় এবং প্রশংসার দাবিদার।
ড. আতাউল করিমের মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানীর সাহিত্য জগতে পদার্পণ দেশের তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও মানবিকতার সেতুবন্ধন গড়তে উৎসাহিত করবে। তার এই গ্রন্থটি শুধু জ্ঞান পিপাসুদের জন্যই নয়, বরং যারা জীবন ও জগতের রহস্য উন্মোচনে আগ্রহী, তাদের জন্যও এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। আশা করা যায়, ‘যে শুরুর শেষ নেই’ বইটি পাঠক মহলে ব্যাপক সমাদৃত হবে এবং এটি বাংলা সাহিত্যের ভাণ্ডারকে আরও সমৃদ্ধ করবে, যা আগামী প্রজন্মের জন্য এক অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
