Tuesday , June 30 2026
Breaking News
কৃষি খাতে জাতীয় বাজেটের ১০ শতাংশ বরাদ্দের দাবি: খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি

কৃষি খাতে জাতীয় বাজেটের ১০ শতাংশ বরাদ্দের দাবি: খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে আসন্ন জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতে মোট বরাদ্দের অন্তত ১০ শতাংশ দেওয়ার জোর দাবি উঠেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন কৃষিবিদ, অর্থনীতিবিদ, গবেষক এবং কৃষক সংগঠনের পক্ষ থেকে এই দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। তাদের মতে, কৃষিখাতকে আধুনিকীকরণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং কৃষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে এই ধরনের একটি সাহসী ও সুনির্দিষ্ট আর্থিক বরাদ্দ এখন সময়ের দাবি।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষির ভূমিকা অপরিসীম। দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি)-এ কৃষিখাতের অবদান এখনও প্রায় ১২ শতাংশ, এবং মোট শ্রমশক্তির ৪০ শতাংশেরও বেশি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। ধান, পাট, চা, সবজি, ফল এবং মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে। দেশের ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের খাদ্য যোগান দিয়ে কৃষিখাত নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। তবে, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দামের অস্থিরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রকোপ বৃদ্ধি, এবং কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা ব্যবস্থার অভাব এই খাতের অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিগত বছরগুলোতে কৃষি খাতে যে বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে, তা দেশের কৃষি খাতের বিশালতা এবং এর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যথেষ্ট ছিল না। গবেষণা ও উন্নয়ন, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, মানসম্মত বীজ ও সার সরবরাহ, সেচ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এবং কৃষিপণ্যের সঠিক বাজারজাতকরণে আরও ব্যাপক বিনিয়োগের প্রয়োজন। প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ বরাদ্দ এই ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি শুধুমাত্র উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করবে না, বরং কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি গ্রহণে উৎসাহিত করবে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে।

বর্ধিত বাজেট কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে কৃষিঋণ সুবিধা, কৃষি উপকরণে পর্যাপ্ত ভর্তুকি এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণে সহায়তা করবে। বিশেষ করে, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রক্রিয়ায় গতি আসবে, যা শ্রমিকের অভাব এবং উৎপাদন খরচ কমাতেও সহায়ক হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় ও লবণাক্ততার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় নতুন জাতের শস্য উদ্ভাবন এবং জলবায়ু-সহনশীল কৃষি পদ্ধতির প্রসারে গবেষণা ও উন্নয়নে আরও বেশি অর্থায়ন সম্ভব হবে। এছাড়া, ফসল কাটার পর অপচয় রোধ (post-harvest loss) এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে বিনিয়োগের মাধ্যমে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ভালো মূল্য পাবেন, যা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

দীর্ঘমেয়াদে কৃষি খাতে এই ধরনের একটি বড় বিনিয়োগ দেশের খাদ্য সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করবে, খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাবে এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে শহরের দিকে মানুষের অভিগমন কমাতেও সাহায্য করবে। টেকসই কৃষি উন্নয়ন এবং পরিবেশ-বান্ধব চাষাবাদ পদ্ধতির প্রসারেও এই বাজেট সহায়ক হবে। সরকারের “স্মার্ট বাংলাদেশ” বিনির্মাণের লক্ষ্য অর্জনে স্মার্ট কৃষি একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, আর পর্যাপ্ত বাজেট ছাড়া সেই লক্ষ্য অর্জন কঠিন।

সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, নীতিনির্ধারকদের কাছে এই গুরুত্বপূর্ণ দাবিটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত। কারণ, একটি সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী কৃষিই পারে একটি টেকসই ও আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতির ভিত্তি তৈরি করতে। এই দাবি বাস্তবায়িত হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি প্রান্তিক কৃষকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।

এছাড়াও

স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট সাশ্রয়ী করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর: ডিজিটাল বৈষম্য দূর করার লক্ষ্য

স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট সাশ্রয়ী করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর: ডিজিটাল বৈষম্য দূর করার লক্ষ্য

দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ডিজিটাল প্রযুক্তির সুফল পৌঁছে দিতে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের দাম আরও কমিয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *