Thursday , July 23 2026
Breaking News
দীর্ঘ ৮ বছর পর ফের ঘরের মাঠে সাফের মহারণ: ফুটবল উন্মাদনায় ভাসতে প্রস্তুত বাংলাদেশ

দীর্ঘ ৮ বছর পর ফের ঘরের মাঠে সাফের মহারণ: ফুটবল উন্মাদনায় ভাসতে প্রস্তুত বাংলাদেশ

দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আবারও ফিরে আসছে বাংলাদেশে। দীর্ঘ ৮ বছরের দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে আঞ্চলিক ফুটবলের এই শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই আয়োজনের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এতে করে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এবং ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে নতুন এক উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৮ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল সাফের দ্বাদশ আসর। দীর্ঘ সময় পর পুনরায় ঘরের মাঠে দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের এই মিলনমেলা বসতে চলায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

ঐতিহাসিকভাবে সাফের মঞ্চে বাংলাদেশের রেকর্ড বেশ সমৃদ্ধ। ২০০৩ সালে ঘরের মাঠেই প্রথমবারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। পরবর্তীতে ২০০৯ এবং ২০১৮ সালেও সফলভাবে এই মেগা টুর্নামেন্ট আয়োজন করে ঢাকা। দীর্ঘ আট বছর পর আবারও দেশের মাটিতে সাফের আয়োজনকে কেন্দ্র করে নতুন করে স্বপ্ন বুনছেন ফুটবল সংশ্লিষ্টরা। আয়োজক হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করার পাশাপাশি শিরোপা পুনরুদ্ধার করাই এখন স্বাগতিক দলের প্রধান লক্ষ্য।

টুর্নামেন্টটি মহাসমারোহে সফল করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করেছে বাফুফে। ম্যাচের ভেন্যু হিসেবে অবকাঠামোগত সুবিধা বিবেচনায় রেখে রাজধানী ঢাকার প্রধান স্টেডিয়ামসহ আধুনিক ক্রীড়া সুবিধা সংবলিত ভেন্যুগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। স্টেডিয়ামগুলোর সংস্কার, আন্তর্জাতিক মানের আলোকসজ্জা, মাঠের ঘাস প্রস্তুতকরণ এবং দর্শক ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে। ফুটবলারদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং জাতীয় দলের জন্য বিশেষ দীর্ঘমেয়াদি ক্যাম্প আয়োজনের পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল পরাশক্তি ভারত, নেপাল, মালদ্বীপ, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের অংশগ্রহণে এই টুর্নামেন্টটি বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ঘরের মাঠে খেলা হওয়ায় দর্শক সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য ছিনিয়ে আনতে আশাবাদী জাতীয় দলের কোচ ও খেলোয়াড়েরা। হোম অ্যাডভান্টেজকে কাজে লাগিয়ে গ্রুপ পর্বের বাধা টপকে সরাসরি ফাইনালের মঞ্চে পৌঁছানোই থাকবে স্বাগতিকদের মূল লক্ষ্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন কেবল মাঠের ফুটবলকেই চাঙ্গা করবে না, বরং দেশের ক্রীড়া পর্যটন এবং সামগ্রিক ফুটবলের বাজারকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যাবে। দীর্ঘ দিন পর ঘরের মাঠে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ দেখার সুযোগ পেয়ে উৎফুল্ল ফুটবল সমর্থকেরা। বাফুফের সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা এবং ক্রীড়ামোদী দর্শকদের ভালোবাসায় এবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ একটি স্মরণীয় টুর্নামেন্ট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়াও

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশে প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর দিল্লির, ঘুচবে কি আইসিসি বিশ্বকাপ বয়কটের বরফ?

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশে প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর দিল্লির, ঘুচবে কি আইসিসি বিশ্বকাপ বয়কটের বরফ?

শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর এই প্রথম কোনো উচ্চপর্যায়ের ভারতীয় প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে এসেছে। রাজনৈতিক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *