Thursday , July 23 2026
Breaking News
‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনায় জোর, বললেন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা খলিল

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনায় জোর, বললেন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা খলিল

ঢাকা: বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনার ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘সর্বাগ্রে বাংলাদেশ’ নীতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা খলিল সম্প্রতি এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন, যা দেশের কূটনৈতিক মহলে গভীর আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন বাংলাদেশ বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে চাইছে।

খলিল জোর দিয়ে বলেছেন যে, বাংলাদেশের প্রতিটি বৈদেশিক নীতিগত সিদ্ধান্ত, চুক্তি, এবং অংশীদারিত্ব অবশ্যই দেশের জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের কল্যাণের বিষয়টিকে কেন্দ্রে রেখে প্রণীত ও পরিচালিত হবে। তার মতে, অর্থনৈতিক কূটনীতিকে আরও কার্যকর করা, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা, এবং প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষা করা এই ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির মূল স্তম্ভ হিসেবে কাজ করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই নীতি কেবল একটি শ্লোগান নয়, বরং এটি একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা যা দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অপরিহার্য।

এই ‘সর্বাগ্রে বাংলাদেশ’ নীতি মূলত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পররাষ্ট্রনীতির ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো প্রতি শত্রুতা নয়’ মূলমন্ত্রের আধুনিক ও প্রায়োগিক সংস্করণ। এর লক্ষ্য হলো, বিশ্বজুড়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ এবং সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করা। বাংলাদেশ একইসাথে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তির সাথে তার সম্পর্ক রক্ষা করে চলবে, তবে তা অবশ্যই বাংলাদেশের কৌশলগত অগ্রাধিকার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আরও ব্যাখ্যা করেন যে, এই নীতি অনুসরণের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ ২০৪১ রূপকল্প বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর নতুন বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এই নীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি বলেন, বহুপাক্ষিক ফোরামগুলোতে বাংলাদেশের কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করা হবে যাতে দেশের স্বার্থ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জোরালোভাবে তুলে ধরা যায়।

খলিল আরও যোগ করেন যে, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসন এবং সীমান্ত সুরক্ষার মতো আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই নীতি বাংলাদেশকে আরও দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করবে। তিনি বলেন, যেকোনো দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক আলোচনায় বাংলাদেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সুযোগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো, বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে ধাবিত করা এবং তা যেন দেশের আপামর জনসাধারণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরাসরি অবদান রাখে।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি ঘোষণা সরকারের একটি দূরদর্শী পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা তৈরি হবে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও মজবুত করবে। এই নীতি বাস্তবায়নে সরকার একটি সক্রিয় এবং বিচক্ষণ কূটনৈতিক কৌশল গ্রহণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যার ফলে বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং জাতীয় লক্ষ্য অর্জনের পথ সুগম হবে।

এছাড়াও

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশে প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর দিল্লির, ঘুচবে কি আইসিসি বিশ্বকাপ বয়কটের বরফ?

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশে প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর দিল্লির, ঘুচবে কি আইসিসি বিশ্বকাপ বয়কটের বরফ?

শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর এই প্রথম কোনো উচ্চপর্যায়ের ভারতীয় প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে এসেছে। রাজনৈতিক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *