মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের পেস আক্রমণ এবং রিশাদ হোসেনের দুর্দান্ত লেগ স্পিন ঘূর্ণিতে ভর করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুর্দান্ত এক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপকে ধসিয়ে দিয়ে ম্যাচে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে টাইগাররা। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা, যা সিরিজের বাকি ম্যাচগুলোকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলেছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুর্দান্ত বোলিং প্রদর্শনী উপহার দেন পেসার সাইফউদ্দিন। তার নিখুঁত লাইন-লেন্থ এবং গতির বৈচিত্র্যে দিশেহারা হয়ে পড়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটাররা। পাওয়ার প্লের শুরুতেই আঘাত হেনে দলের ইনিংসে শক্ত ভিত গড়ে দেন এই পেসার। সাইফউদ্দিনের গতির ঝড় সামলে ওঠার আগেই স্পিন জাদুকর রিশাদ হোসেন প্রতিপক্ষের মিডল অর্ডারে ধস নামান। রিশাদের লেগ স্পিনের ঘূর্ণি বুঝতে পুরোপুরি ব্যর্থ হন ব্যাটাররা, যার ফলে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে প্রতিপক্ষ দল।
বোলারদের এমন অনুমেয় ও আঁটসাঁট বোলিংয়ের মুখে পড়ে বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে ব্যর্থ হয় সফরকারী দল। নির্ধারিত ওভারগুলোতে স্কোরবোর্ডে খুব বেশি রান যোগ করতে না পারায় তুলনামূলক সহজ লক্ষ্য পায় বাংলাদেশ। মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে টাইগার ব্যাটাররা শুরু থেকেই সতর্ক ও আগ্রাসী মেজাজে ব্যাট চালাতে থাকে। উদ্বোধনী জুটিতে আসে মূল্যবান রান, যা দলের জয়কে ত্বরান্বিত করে। মাঝে কিছু উইকেট দ্রুত পতন হলেও অভিজ্ঞ ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ইনিংসে কোনো বিপত্তি ছাড়াই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা।
এই জয়ের ফলে সিরিজে ১-১ সমতা ফেরাল বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে পরাজয়ের পর ঘুরে দাঁড়ানো মানসিকতা দলের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে কোচ ও অধিনায়কের কণ্ঠে ঝরে পড়ে স্বস্তি ও তৃপ্তির সুর। বিশেষ করে বোলিং বিভাগের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন টিম ম্যানেজমেন্ট। এখন সবার নজর আগামীতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সিরিজ নির্ধারণী ফাইনাল ম্যাচের দিকে। নিজেদের সেরাটা দিয়ে সিরিজ জয় করেই মাঠ ছাড়তে বদ্ধপরিকর টাইগাররা।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
